সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। এবার সর্বোচ্চ, অর্থাৎ ১৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে। যা মোট জিডিপির ২ দশমিক ১১ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ বেড়েছে সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো কিছু নতুন কর্মসূচি নেওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক ভাতাসহ কিছু কর্মসূচিতে উপকারভোগী বাড়ানো হচ্ছে। বাড়ছে ভাতার পরিমাণও।
এবার বাজেটে প্রথমবার যুক্ত হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি। সর্বোচ্চ বরাদ্দ ফ্যামিলি কার্ডে। এ কার্ডধারী ৪১ লাখ নারী মাসে পাবেন ২৫০০ টাকা করে। এতে ব্যয় হবে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ৪২ লাখ কৃষকের কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ ১৪ হাজার কোটি টাকা।
ফ্যামিলি কার্ডের পর সর্বোচ্চ বরাদ্দ বয়স্ক ভাতায়। এই ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে হয়েছে ৬২ লাখ। মাসিক ভাতাও ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা নারী উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৩০ লাখ করা হয়েছে। তাদের ভাতাও ৫০ টাকা বেড়ে হচ্ছে ৭০০ টাকা।
বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ও ভাতা– দুটিই বাড়িয়েছে সরকার। ভাতা পাবেন ৩৯ লাখ। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ এবং মাসিক ভাতার হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে।
প্রথমবার ভাতার আওতায় আসছে বেকার শ্রমিকরা। ১৫ হাজার বেকার শ্রমিককে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেবে সরকার। তবে বছরে তিন বার এ সহায়তা পাবেন তারা। এ জন্য বাজেটে বরাদ্দ ৩০ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এ খাতকে আরও আধুনিক ও টেকসই করার আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর।