২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করছাড় দিয়ে করের আওতা বাড়াচ্ছে সরকার। শহর থেকে গ্রাম কিংবা স্বল্প, মধ্য ও উচ্চ আয়ের সব মানুষকেই আনা হচ্ছে করের আওতায়।
তাই, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের বিশাল লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে এনবিআরকে। কর জিডিপি ১৫ শতাংশ উন্নীত, ফাঁকি রোধ ও অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে বের হওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ।
বাজেটের আকার ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় অভ্যন্তরীন রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। যার ৮৬ শতাংশই সংগ্রহ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআর।
মধ্য মেয়াদে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্য ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।
আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর আদায় করবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। আয়কর ও ভ্যাট যথাক্রমে ৩৭ শতাংশ করে আর কাস্টমস ২৬ শতাংশ আদায় করে দেবে।
ব্যক্তি করদাতাদের স্বস্তি দিতে আগামী দুই অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করছি।'
তবে করমুক্ত আয়ের সীমায় স্বস্তি দিলেও বাড়ানো হয়েছে কর হার। প্রতি স্লাবে ৫ শতাংশ হারে বেড়ে হয়েছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।
পরবর্তী দুই বছরের জন্য করমুক্ত সীমা হবে ৪ লাখ টাকা। এবং পরবর্তী ১ বছরের জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে ৩ কোটি টাকার ওপরে আয়ের ওপর ৩৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে।
কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর সাথে মানুষকে স্বস্তি দিতে রয়েছে অব্যাহতিও। ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খুললে নিতে হবে ভ্যাট আইডেন্টি ফিকেশন নাম্বার।
স্টার্টআপ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি থাকছে। স্বর্ণের ভরিতে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংক স্থিতির ওপর আবগারী শুল্ক অব্যাহতির সীমা নির্ধারণ হয়েছে ৪ লাখ টাকা। ব্যাংক একাউন্টে লাগবে টিআইএন সার্টিফিকেটও।



