ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করাসহ বেশ কয়েকটি বাজেট প্রস্তাব থেকে সরে আসতে পারে সরকার। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করে, এমন জায়গায় আনা হবে পরিবর্তন। সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাশের মাধ্যমে কর ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করা হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেটের লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায় বাড়াতে মনোযোগ দিতে হবে সরকারকে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছিল। বাজেট ঘোষণার পরই বিষয়টির পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা হয়। কারণ, অনেক মানুষকে করযোগ্য আয় না থাকলেও রিটার্ন জমা দিতে হবে। এতে ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এসব সমালোচনা বিবেচনায় বিষয়টি থেকে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। অর্থাৎ চূড়ান্ত বাজেটে টিআইএনের বাধ্যবাধকতা থাকছে না। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ অর্থবিল, ২০২৬-এ সংযুক্ত করা হবে। তারপর সংসদে অনুমোদিত হলে তা কার্যকর হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, 'এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না, যেখানে মানুষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে নিরুৎসাহিত হয়।'
প্রস্তাবিত বাজেটে খোসাসহ কাঁচা কাজুবাদাম আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে মোট করের হার প্রায় ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়। এতে দেশীয় প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্বেগ জানায়। চূড়ান্ত বাজেটে কাঁচা কাজুবাদামের শুল্ক কমানো হতে পারে।
এছাড়া বিজ্ঞাপনী সংস্থার উৎসে কর, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এজেন্সি, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ কর, তৈরি পোশাক খাতের উৎসে কর, কাঁচামাল আমদানির শুল্কসহ কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনের আলোচনা চলছে।
সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, 'যারা খুচরা ব্যবসায়ী কর চাপাতে চাইলে তা পাস করে দিতে পারে। অনেক পণ্যে তারা ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে পার করে দেবে। এ বিষয়গুলো বাজেটে আসেনি।'
সংশ্লিষ্টদের মতে, এবার করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্য ঠিক রেখে বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে নীতি গ্রহণ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ খুবই কম। তবে কর ও শুল্কসংক্রান্ত কিছু বিষয়ে বাস্তবতা বিবেচনায় সংশোধন আনা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।