যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর এর সফর বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগের সম্ভাবনার হাতছানি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এ জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন তারা। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশকে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার সফর। মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত বিশেষ দূত সার্জিও গর এর ৩ দিনের সফরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে।
বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং অভিবাসনসহ বহুমাত্রিক খাত নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে রাখাইনে মানবিক করিডর, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর, ভারত, আওয়ামী লীগ, আকসা বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুক্রবার সকালে সার্জিও গর বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে।
সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন সার্জিও গর। সেখানে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।
জানান, সামনের সপ্তাহে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ সফরের কথাও।
সার্জিও গরের সফর বাংলাদেশের বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কগুলো আগায় নিচ্ছে। চুক্তির পারে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চিনে গেলে, এরপর ভারতে যাবেন, রাশিয়া যাবেন। সব জায়গা থেকে তার নিমন্ত্রণ আছে এবং সেগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে, গ্রহণ করা হবে। সুতরাং আমাদের চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। ওই চুক্তিতে যাই থাকুক না কেন, সবার সাথে সম্পর্ক হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও যাতে সম্পর্কটা ভালো থাকে সেই চেষ্টাই সরকার করবে।’
তবে ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, বিনিয়োগের জন্য দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, যেদিকে সরকারের মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সরকার খুব ভালো করে জানে তার ম্যান্ডেট জনগণ দিয়েছে এবং জনগণ খুব তাড়াতাড়ি চাইবে বড় ধরনের ইনভেস্টমেন্ট আসুক। তাদের মাথা ব্যথা হলো এখানে কি স্ট্যাবিলিটি বাড়বে? এখানে কি সংঘর্ষ বাড়বে? সংঘর্ষ যদি বাড়ে তাহলে তার ইনভেস্টমেন্টে তখন কী হবে।–এই বিষয়টি তারা আরও পরিষ্কার হতে যাচ্ছে। আমার মনে হয় সেই ধরনের আলোচনা না হওয়ার কারণ দেখছি না।’
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিজের স্বার্থে বাংলাদেশকে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।