জুলাই আন্দোলনে ঢাকায় শহীদ হওয়া লালমনিরহাটের মিরাজের পরিবার দিন কাটাচ্ছে অর্থকষ্টে। সহায়তার নানা আশ্বাস দিলেও, এখন সবাই লাপাত্তা। একই অবস্থা শেরপুরের সৌরভ, সবুজ আর মাহবুবের পরিবারেরও। নানা জটিলতায় আটকে আছে বিচার কাজ। ছেলে হত্যার আসামিদের কি শাস্তি হয়, সেটা দেখার আশায় বাবা-মায়েরা।
লালমনিরহাটের আদিতমারীর মহিষখোঁচা সরদারপাড়া গ্রামের এই কুঁড়েঘরে নিরবে কাঁদেন মা মোহসেনা বেগম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ২১ বছরের ছেলে মিরাজুল ইসলাম রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এর কিছুদিন পরই মারা যান মিরাজের বাবাও।
শহীদ মিরাজুলের মা মোহসেনা বেগম বলেন, ‘ছেলেকে হারিয়ে আমার জীবন অন্ধকার। কত ছেলে ঢাকা থেকে বাড়ি আসে, আমার ছেলে আর আসে না। আমি শুধু আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’
সংসারের হাল ধরতে পড়ালেখা ছেড়ে কাজ শুরু করেছেন মিরাজের ছোট ভাই মেজবাউল মিয়া। শুরুতে অনেকে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না তাদের।
শহীদ মিরাজের ছোট ভাই মেজবাউল মিয়া বলেন, ‘ভাইকে হারানোর পর সংসার চালাতে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নেমেছি। শুরুতে অনেকেই পাশে থাকার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন আমাদের খোঁজ নেওয়ার মানুষ খুব কম। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচার চাই।’
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন,
এদিকে, জুলাই শহীদ সৌরভ, সবুজ আর মাহবুবের স্বজনদের দিন কাটছে হতাশায়। তিন জনেরই বাড়ি শেরপুর সদরে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের শাস্তি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবারগুলো।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, সৌরভ ও মাহবুব হত্যা মামলায় পুলিশ চার্জশিট জমা দিলেও আসামি হিসেবে এক ম্যাজিস্ট্রেটের নাম থাকায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতির অপেক্ষায় ঝুলে আছে বিচার কাজ।
জুলাই শহীদদের পরিবার ও আহতদের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চান স্বজনরা।