নদী ভাঙনে দিশেহারা লালমনিরহাট, গোপালগঞ্জ, মোংলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি, ভিটেমাটিসহ নানা স্থাপনা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
চোখের সামনে ফসলি জমি, ভিটে-মাটি আর পূর্ব পুরুষের কবরস্থানও চলে যাচ্ছে তিস্তার গর্ভে।
লালমনিরহাট সদরের খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের খোলাহাটি খামারটারী এলাকায় তীব্র হয়েছে তিস্তার ভাঙন। শেষ আশ্রয়টুকু নদীগর্ভে হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে নদী পাড়ের মানুষের।
নদী তীরের এক নারী বাসিন্দা বলেন, ‘নদীতে সব ভাইঙ্গা যাইতেছে। আর কয়েকদিন ভাঙলে বাড়িত ভাঙন ধরবে।’
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘নদীর পাড়ের এই ফসলি জমিই আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। আমাদের কোনো ব্যবসা নাই অন্যকিছু নাই কাজ করে খাওয়ার মতো। আমরা এই কৃষির ওপরই নির্ভরশীল। সেই কৃষি জমিই আমাদের নদীর মধ্যে চলে যাচ্ছে ভাই, আমাদের আর করার কিছু নাই।’
আরেক বৃদ্ধ নারী বলেন, ‘আমরা ত্রাণের সিলিপ চাই না। আমাদের নদীর বাধ হলে আমরা মহা খুশি।’
গোপালগঞ্জে বিভিন্ন নদ-নদীর ৪৬টি স্থানে ভাঙন ঠেকাতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এই জেলার নদী তীরে বসবাস করা এক যুবক বলেন, ‘এখানে ব্লক ছিল সব নদী গর্ভে চলে গেছে। নদী প্রচুর পরিমাণ ভাঙতেছে।’
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিস হায়দার খান বলেন, ‘বর্তমানে দুইটি প্যাকেজের কাজ চলমান আছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আরও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে জিও ব্যাগের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’
মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলে ভাঙনের কবলে রামপালের রোমজাইপুরসহ কয়েকটি গ্রাম। শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা উপকূলবাসী।
রামপাল অংশে অতি দ্রুত পাইলিং বাঁধ নির্মাণে আশ্বাস দিয়েছেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পাইলিং করতে হবে বা বড় ধরনের এক পরিবর্তন করতে হবে। এইখানে সাধারণ কোনো ভাঙন নয়। এ ছাড়া এইখানে ড্রেইজিংয়ের কারণে একটা ভাঙনের প্রক্রিয়া আছে।’
শুধু আশ্বাস নয়, নদী ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থার দাবি ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন জেলার প্রতিনিধিরা।



