কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, বিএনপির বিবেচনায় আছেন কারা?

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন—রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা এটি। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া বঙ্গভবনের শীর্ষ পদের জন্য বেশ কয়েকটি নাম গুঞ্জনে রয়েছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত পাল্লা ভারী বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দিকেই।

দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হিসেবে মির্জা ফখরুলকেই প্রার্থী মনোনীত করার ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে।

গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ২০ আগস্ট।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত।

প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও এই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, গাণিতিক হিসাব এবং বিরোধীদের মতামত না নেওয়ার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তাঁরা প্রার্থী দিচ্ছেন না। ফলে একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনীত ব্যক্তি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত রয়েছে।

বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, দল এবার কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তি নয়, বরং দলের ভেতর থেকেই একজন পরীক্ষিত রাজনীতিবিদকে বঙ্গভবনে পাঠাতে চায়। সে ক্ষেত্রে দীর্ঘ দেড় দশক আওয়ামী-বিরোধী আন্দোলনে দলের হাল ধরা এবং কঠিন সময়ে সংগঠনকে ধরে রাখার অবদান বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।

দীর্ঘ সময়ে দলের শীর্ষ দুই নেতা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান মূল ভূমিকায় ছিলেন তিনিই। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের স্বীকৃতি ও সম্মান হিসেবে মির্জা ফখরুলকে এই মর্যাদাপূর্ণ আসনে স্থলাভিষিক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে।

তবে মির্জা ফখরুল ছাড়া দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় ছিল। কিন্তু দলের বিশাল একটি অংশ মনে করে, আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে মির্জা ফখরুলই বঙ্গভবনের উপযুক্ত দাবিদার।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতির পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার সর্বময় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। তিনি শিগগিরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে একক প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষিত হলে তিনিই হবেন বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা।