রাজধানীতে বাড়ছে মাদকের কারখানা

একসময় ভারত-মিয়ানমার থেকে আসতো ফেনসিডিল ও ইয়াবা। আর এখন রাজধানীর কাছেই তৈরি হচ্ছে ইয়াবাসহ নানা মাদক। এ বছর অন্তত ৬টি মাদক কারখানার সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েক বছরে পাওয়া গেছে ১০টিরও বেশি। 

অভিযানে মিলেছে, আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে তৈরি হচ্ছে বিদেশি মাদক কুশ, কেটামিন, ইয়াবা ও ভেজাল মদ। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো বলছে, এসব মাদকই ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীতে। 

ফলে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আসার খবর এখন পুরনো। রাজধানীতেই একের পর এক খোঁজ মিলছে মাদক তৈরির কারখানার। এসবের পেছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি চক্র। এই যেমন, ওয়ারীর এক বাসায় ছিল কুশ চাষের বিশেষ ল্যাব। আড়ালে রাখতে ব্যবহার করা হতো কৃত্রিম আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। তদন্তে উঠে আসে, এই ল্যাবের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক ব্যক্তি, প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবটি তদারকি করতেন তিনি।

একই দিনে বসুন্ধরা আবাসি এলাকায় পাওয়া যায় ভেজাল মদের কারবার। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে নানা ব্রান্ডের মদ তৈরি, বোতলজাত ও সংরক্ষণের কাজ চলে। 

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইয়াবা কারখানার সন্ধান মেলে গাজীপুরের টঙ্গীতে। জব্ধ করা হয় কাঁচামাল ও নানা সরঞ্জাম। মার্চে উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে অভিযানে কেটামিনের ল্যাবের সন্ধান পায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সেখানে এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আর জব্দ করা হয় ৬ কেজির বেশি কেটামিন।

জুলাই ও আগষ্টে কেরানীগঞ্জের দুই এলাকায় ইয়াবা কারখানার সন্ধ্যান পায় র‍্যাব। সেখানে যন্ত্রপাতি বসিয়ে তৈরি হতো মাদক। চক্রের সদস্যরা যন্ত্রাংশ আমদানি করে, দেশেই বানায় এসব যন্ত্র। এই দুই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় কয়েকজনকে।

ঢাকায় মাদক তৈরির এমন কর্মযজ্ঞে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও হতবাক। এই প্রেক্ষাপটে, মাদক প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে আগের চেয়ে কয়েকগুণ।  

উল্লেখ্য, গত ৫ বছরে, ১০টি মাদক কারখানার সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৬টি পাওয়া যায় রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, এখন বাড়তি নজর থাকছে সন্দেহভাজন বিদেশীদের ওপর।

যারা বিদেশে বসে মাদক তৈরি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযানে নামার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।