দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে হলে গণতন্ত্রের নিয়মিত চর্চা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশের মানুষও একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল হলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জন্মাষ্টমী, রথযাত্রাসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপনে সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা এবং পুরোহিত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সন্তোষ শর্মা এসব পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তুষ্টির বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে জানান।
পরিষদের নেতারা এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় প্রতিনিধিদল আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সাদরে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতা, ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে সকল নাগরিকের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।