সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা সম্পর্কে জানে না রাজধানীর অধিকাংশ রিকশা চালক। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, নতুন বিধিমালায় ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হলো। তবে, বিধিমালার নির্দেশনা কার্যকরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।
বেপরোয়া গতি, রুট-লেন না মানা কিংবা উলটোপথে শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা। চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে বারবারই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ।
‘অটোরিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ এ ই-রিকশার নিবন্ধন, নবায়ন, ফিটনেস, গতিসীমা ও নির্দিষ্ট সড়কে চলাচলে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। তবে বিধিমালার বিষয়ে জানেন না অধিকাংশ রিকশা চালকই।
এক অটোরিকশা চালাক বলেন, ‘সরকার যে নিয়মটা করছে সেই নিয়মটা আমি এখনো জানি না।’ এরকম একাধিক চলককে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা একই কথা বলেন।
যারা শুনেছেন তাদের কাছেও স্পষ্ট না, কী আছে বিধিমালাতে।
আরেক চালক বলেন, ‘নিয়ম চালু করছে, সেটা শুনছি। কিন্তু সেটার ভেতরে কী আছে তা জানি না।’
সড়কে এখনো নতুন বিধিমালার প্রতিফলন দৃশ্যমান নয়। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, আগামী বছরের শুরুতে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যাবস্থা আরও উন্নত হবে।
ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান বলেন, ‘চাইলেও ওভাবে কাউকে দণ্ডের আওতায় আনতে পারতাম না। এখন আমাদের আইনের দিক দিয়ে সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাস আমাদের হয় প্রচারের কাজেই সময় চলে যাবে।’
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিবন্ধনের সংখ্যা ও চালকের দক্ষতার বিষয়টি বিধিমালায় রাখতে হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক বলেন, ‘সংখ্যাগত নিয়ন্ত্রণের পরেই এখানে আসবে যে যানবাহন সম্পর্কে এত বিধিমালা দেওয়া হলো, চালক সম্পর্কে কিন্তু সেই বিষয়টি বলা হলো না। বিধিমালা উন্নত করার সুযোগ আছে কিন্তু আমি শঙ্কিত এটা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আছে কিনা।’
নির্ধারিত স্থান ছাড়া রিকশা চার্জ না করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।