বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারে চালানো হয়েছিলো 'অপারেশন বিগ বার্ড'

অপারেশন সার্চ লাইটের মধ্যেই বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তারে চালানো হয়েছিলো অপারেশন বিগ বার্ড। দুই সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে তাকে গ্রেপ্তারের পর, ওয়ারলেসে টিক্কা খানকে দেয়া হয়েছিলো সাংকেতিক বার্তা বিগ বার্ড ইন কেজ। এর পর থেকে টানা নয় মাস, পাকিস্তানের কারাগারে আটক ছিলেন তিনি। তার দেখানো পথে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ঢাকা আসেন ১০ জানুয়ারি।

পঁচিশের মার্চের সেই রাতে একদিকে চলছে নিরস্ত্র বাঙালি হত্যা অন্যদিকে, তাদের প্রাণ পুরুষ বঙ্গবন্ধুকে আটকে শুরু হয়ে যায় অপারেশন বিগ বার্ড। সেই কমান্ডো বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেনেন্ট কর্নেল জেড এ খান এবং মেজর বেলাল।

রাত একটার দিকে, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে আসে পাকিস্তানি সেনারা। সেখানে তাদের চালানো বেপরোয়া গুলিতে প্রাণ দেন এক নিরাপত্তা রক্ষী। পরিবারের সদস্যদের ঘরে রেখে, গুলি বন্ধ করতে বলেন বঙ্গবন্ধু।

পরে সবার সঙ্গে দেখা করে সেনাবাহিনীর গাড়ি উঠেন তিনি। ৫৭ ব্রিগেডের মেজর জাফর, টিক্কা খানকে ওয়ারলেসে সাংকেতিক বার্তা পাঠান বিগ বার্ড ইন কেজ।

সেই রাতে আদমজী স্কুলে রাখা হয় বঙ্গবন্ধুকে। পরদিন নেয়া হয় ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউসে। তিন দিন পর করাচী বিমানবন্দরে বসা গ্রেপ্তারের পর তার প্রথম ছবি আসে গণমাধ্যমে।

পাকিস্তানে নেয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে রাখা হয় মিয়াওয়ালী জেলে। সেখানে রেডিও দূরের কথা, খবরের কাগজও দেওয়া হতো না তাকে। করা হয়েছে নির্মম নির্যাতন। সেনা ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর সেলের পাশে খোঁড়া হয়েছিলো কবর।

ক্ষমতায় এসে, শেখ মুজিবকে মিয়াওয়ালী জেল থেকে রাওয়ালপিন্ডির একটি গেস্ট হাউসে নেয়ার নির্দেশ দেন ভুট্টো। ৭ জানুয়ারি রাওয়ালপিন্ডির চকলালা বিমানঘাঁটি থেকে রওয়ানা হয়ে লন্ডন আসেন বঙ্গবন্ধু। সেখানে থেকে দিল্লির জনসভায় ভাষণ দিয়ে স্বাধীন স্বদেশ ভূমিতে পৌঁছান ১০ জানুয়ারি।

/এন-এইচ/