সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ৪টি ধারা বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের সাবধান করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) হাসনাত আব্দুল্লাহ। সোমবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, জনগণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ‘জনদুর্ভোগ ও ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত করার ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে পরিচিত সচিবালয়ের ক্যু সম্পর্কে সচেতন থাকুন। পাঁচ অগাস্ট পর্যন্ত কালো ব্যাজ ধারণ করে, হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে অফিস করা সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাদের ক্যু অব্যাহত রাখলে তাদের পরিণতি পতিত হাসিনার মতো হবে।’
এনসিপির অন্যতম শীর্ষ এ নেতা আরও লেখেন , ‘বাংলাদেশের জনগণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে। সুতরাং, সাবধান’
অন্যদিকে সচিবালয় ও জাতীয় রাজন্য বোর্ডের আন্দোলনকারী কর্মীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। একই দিন নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সরকারের উচিত অবিলম্বে এসকল দুর্নীতিগ্রস্তদের অপসারণ করে, নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।’
আব্দুল হান্নান মাসউদ আরও লিখেছেন, ‘আজ সচিবালয়, এনবিআর কিংবা পোর্টে যারা স্ট্রাইক করছেন, তাদের বলছি বিপ্লব ওখানেও হবে। আপনারা দুর্নীতি আর লুটপাটের স্বাধীনতা চাচ্ছেন, কিন্তু চব্বিশ পরবর্তী সময়ে এটা আর পাবেন না। হাসিনার পুরো শাসনামলের প্রতিটি গুম, খুন, দুর্নীতি, অর্থপাচার সবকিছুর সহযোগী আপানারা। ভাববেন না, পার পেয়ে গেছেন। পুনশ্চ বলছি, পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ৪টি ধারা বাতিলের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে সচিবালয়ে বিক্ষোভ করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারাদেশে কর্মবিরতির ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত অধ্যাদেশকে ‘নিবর্তনমূলক ও কালাকানুন’ আখ্যায়িত করে তা দ্রুত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য বিভাগীয় মামলা না করে শুধু কারণ দর্শানোর নোটিসে চাকরিচ্যুতিসহ ৪টি ধারা যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যাদেশে। নতুন অধ্যাদেশের কারণে সহজেই শাস্তি, এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্তের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা।
গত ২২ মে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। গত রোববার অধ্যাদেশটি গেজেট প্রকাশ হয়।