দুই-তিনটি আসন দেখিয়ে, ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারার লোভ দেখিয়ে গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে কিনে নেওয়ার সাধ্য বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের হয় নাই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরার শহীদ আসিফ চত্বরে এনসিপি সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন বলেন, ‘আমরা সংস্কার চেয়েছি, জুলাই গণহত্যার বিচার চেয়েছি এবং নতুন সংবিধান চেয়েছি। কিন্তু একটি পক্ষ আমাদের চাওয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, যারা পুরোনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখতে চায়।’
নাহিদ হাসান বলেন, ‘তারা ভেবেছিল ২-৩টি আসন দেখিয়ে, ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারার লোভ দেখিয়ে গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে কিনে নেবে। কিন্তু যারা বিপ্লবের শক্তি, যারা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে, তাদের কেনার সাধ্য বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের হয় নাই।’
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন ‘বলা হয়েছে দরজা নাকি খোলা আছে। আমরা বলেছি ৫ আগস্ট দরজা আমরা খুলে দিয়েছিলাম। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছে- আমরা এই অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দ দরজা খুলে দিয়েছিলাম। ৫ আগস্ট আমরা বলেছিলাম- আসুন জাতীয় সরকার করি, দেশটাকে পুনর্গঠন করি, সকল বিভাজন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি। কিন্তু তারা আমাদের সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি। তারা বলেছিল তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। আবার বলেছে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। ক্ষমতার ভা-বাটোয়ারা ছাড়া দেশ সংস্কারের কোনো বিষয়ে তাদের সমর্থন পাওয়া যায়নি। আমরা বলেছিলাম- আমরা দেশের ভেতরে শত্রু তৈরি করতে চাই না।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবীরা চেয়েছিল একটি জাতীয় সরকার গঠন করে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে। কিন্তু একটি দল চেয়েছে ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। তাদের একটিই উদ্দেশ্য ক্ষমতায় যাওয়া।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির সাতক্ষীরা জেলার সমন্বয়ক কামরুজ্জামান বুলুর সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মেজবাহ কামাল ও ডা. তাসনীম জারা। এছাড়া মঞ্চে স্লোগান দেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
পথসভার আগে শহীদ আসিফ চত্বর এলাকায় জুলাই-বিপ্লবে আহত ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এনসিপি নেতারা। পরে একটি পদযাত্রা শহীদ আসিফ চত্বর থেকে বের হয়ে নিউমার্কেট মোড়ে শেষ হয়। এরপর নিউমার্কেট এলাকায় আল বারাকা হোটেলের দ্বিতীয় তলায় জেলা কার্যালয় উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় নেতারা।