নির্বাচনীনির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দে বৈষম্য, অভিযোগ বিরোধীদলীয় এমপিদের এলাকার উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধী দলের এমপিদের। তারা বলছেন, সব দলের এমপিরা সমান বরাদ্দ পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে বিরোধী জোটকে বঞ্চিত করছে সরকার। এর ফলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছেন না।
সংসদ সদস্যরা তাদের এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। আগের তুলনায় সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে এবার প্রত্যেক এমপির জন্য বছরে ১০ কোটি টাকার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদের ১ বছর না যেতেই সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলের এমপিরা।
এ বিষয়ে ঢাকা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘সরকারি দল ২ কোটি পাচ্ছে, বিরোধীদলের এমপিরা পাচ্ছে ১৬ লাখ টাকা। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। কিন্তু সরকার বিরোধীদলের এমপিদের বরাদ্দ না দিয়ে এক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করছে।’
কুড়িগ্রাম-২ আসনের এনসিপির এমপি ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, ‘বিরোধীদলের এমপিদের হয়তো ২০টা বা ১০টা মসজিদ দিয়েছে, সরকারি দল সেখানে ২৫টা মসজিদে ৫০ থেকে ৭৫ লাখ করে বরাদ্দ পেয়েছে। আপনি হন বিএনপি আমার অসুবিধা নাই। কিন্তু এলাকার উন্নয়ন হওয়া মানে তো বাংলাদেশের উন্নয়ন। এখন কুড়িগ্রামে এনসিপি বা জামায়াত জিতেছে বলে বাদ দিয়ে দেবেন?’
বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরা হলেও প্রতিকার না পাননি বলে জানালেন প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিরোধীদল হিসেবে আমাদের তো করার কিছু নাই, বলা ছাড়া। সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে জনগণের অধিকার আদায় করা ছাড়া। জনগণকে সচেতন করা ছাড়া। বিরোধীদল তো মূলত এটাই।’
তবে, সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক কৌশল পুরোনো হলেও, গণ-অভ্যুত্থানের পরের প্রেক্ষাপটে সেই সুযোগ নেই, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর বলেন, ‘এখন যদি বিরোধীদল ও সরকারি দলের মধ্যে এমন কোনো পার্থক্য দেখা যায়, তাহলে প্রমাণসহ বলতে হবে। যেহেতু সংসদ কার্যকর রয়েছে, সংসদে এটা আলোচনা করতে হবে। আলোচনার মধ্য দিয়েই এটার সমাধান হতে হবে।’
নির্বাচিত এমপিদের সমানভাবে মূল্যায়ন না করলে, জনগণের ভোটকেই অবমূল্যায়ন করা হয় বলে দাবি বিরোধী দলের। তাদের দাবি, সরকারি দলের এমপিদের তুলনায় তারা যে বরাদ্দ পাচ্ছেন, তা খুবই সামান্য।
যার ফলে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন বিরোধী দলের এমপিরা।


