তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

অবশেষে অবসান হচ্ছে নেতাকর্মী-সমর্থকদের অপেক্ষার

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনযাপনের পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের লাখো নেতাকর্মী-সমর্থকের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। তবে, বুকে চেপে বরণ করে নিতে পারছেন না অসুস্থ মা খালেদা জিয়া।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও প্রায় ১৭ বছর ধরে লন্ডনের লিভারপুলের বাসায় নির্বাসিত জীবন তারেক রহমানের। সেখান থেকেই পরিচালনা করেছেন দল।

নির্বাসিত জীবনে লন্ডনেই জন্ম নেয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে লন্ডনে বসেই বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। ভিডিও কনফারেন্স আর ভার্চুয়াল বৈঠকেই চলে রাজনীতির দিক-নির্দেশনা।

দেশে আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচন সব কিছুতেই ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন তারেক রহমান। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানেও শুধু নিজ দলই নয়, আন্দোলনরত সবার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন তিনি।

এক-এগারোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। আরও ১৩টি মামলা করে বিচারের সম্মুখীন করা হয়। এরপর একে একে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় ৭৫টি।

মামলা চলাকালে রিমান্ডে নিয়ে তাকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। খুবই অসুস্থ অবস্থায় কারাগার থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

১৮ মাস কারাবাসের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে পাড়ি জমান তারেক রহমান। সেই থেকেই পরিবার নিয়ে তাঁর লন্ডনে অবস্থান।

গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। সেখানে প্রায় ৭ বছর পর মা-ছেলের সাক্ষাৎ হয়। প্রায় ২ মাস একসঙ্গে থাকার পর দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া।

রাজনীতির শুরু ১৯৯১ সালের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালের নির্বাচনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তারেক রহমান। ২০০১ সালে বিএনপির বিজয়ে তাঁর অবদান বিবেচনা করে দল তাকে মূল্যায়ন করে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদ দিয়ে।

২০০৩ সালে বিএনপির তৃণমূল প্রতিনিধি সভা ও ২০০৫ সালে ছাত্রদলের তৃণমূল প্রতিনিধি সভা করে তারেক রহমান দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেন।