উস্কানির মুখেও ধীর-শান্ত থাকতে হবে: তারেক রহমান

আধিপত্যবাদীদের ষড়যন্ত্র এখনও চলছে জানিয়ে সকলকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় নিজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আধিপত্যবাদীদের গুপ্তচররা ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। আজকে এখানে যে কেন্দ্রীয় নেতারা আছেন, কিংবা এর বাইরে যে নেতারা আছেন, সবাই মিলে এই দেশকে জনগণের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়তে চাই। যে কোনো মূল্যে আমাদের শান্তি রক্ষা করতে হবে। উস্কানির মুখে ধীর-শান্ত থাকতে হবে। আমরা শান্তি চাই। আমরা শান্তি চাই। আমরা শান্তি চাই।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদ থেকে রক্ষা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছাত্রসহ খেটে খাওয়া মানুষ তাদের অধিকার ছিনিয়ে আনে। এরপরেও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘চব্বিশে ছাত্রসহ সর্বস্তরের মানুষ দলমত নির্বিশেষে ৫ আগস্ট স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা চায়, যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে। আজ সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এখানে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, সমতলের মানুষও আছে। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করে। সকলে মিলে এমন দেশ গড়ে তুলব, যার স্বপ্ন একজন মা দেখেন। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। একজন শিশু বা বৃদ্ধ যেন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে আবার ঘরে ফিরে আসতে পারে।’

আগামীতে ‘নবী করিমের (সা.) ন্যায়পরায়ণতার আলোকে’ দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথাও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘এখান থেকে আমার মায়ের কাছে যাব। একটি মানুষ, যে এই দেশের মাটি ও মানুষকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবেসেছেন। তাঁর সাথে কী হয়েছে, আপনারা অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে তাঁর জন্য আপনাদের কাছে দোয়া চাইব। আমার মন পড়ে আছে সেই হাসপাতালের বিছানার পাশে। কিন্তু তিনি যাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। এজন্য আগে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে এখানে দাঁড়িয়েছি।’

বিএনপির অন্যতম শীর্ষ এই নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের আজকে নিশ্চিত করতে হবে, যে কোনো মূল্যে এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হবে। বিশৃঙ্খলা পরিত্যাগ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে।’