বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'অপরাজিত' শব্দটিকে নিজের করে নিয়েছেন 'আপসহীন নেত্রী' খ্যাত খালেদা জিয়া। মোট ৫টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই জয়লাভ করার অনন্য এক কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
অর্থাৎ, নির্বাচনে কোনো আসনেই কখনও পরাজয়ের গ্লানি পেতে হয়নি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। আর তাই, আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তাঁর জীবনাবসান হলেও দেশের রাজনীতিতে 'নট আউট' তকমাটা তাঁকেই মানায়।
রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর দিশেহারা এক দলকে নিজ নেতৃত্বগুণে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে দেন খালেদা জিয়া। নিজেও উঠে আসেন রাজনীতির ক্ষমতার শিখরে। আর এর মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে সূচিত হয় নতুন এক অধ্যায়ের। 'খালেদা জিয়া' নামের এই অধ্যায়টি আরও সমুজ্জ্বল হয়েছে সময়ের পরিক্রমায়। তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব দল ও দেশকে বারবার দিশা দেখিয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া
১৯৯১ সালের নির্বাচন:
৫টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন- বগুড়া ৭, ঢাকা ৫, ঢাকা ৯, ফেনী ১ ও চট্টগ্রাম ৮।
ব্যক্তিগত ফলাফল: সবকটিতেই জয়ী হন। ফেনী ১ আসনটি রেখে বাকি চারটি আসন ছেড়ে দেন।
দলের ফলাফল: বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।
১৯৯৬ সালের নির্বাচন (ফেব্রুয়ারি):
৫টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন- ফেনী ১, ফেনী ২, বগুড়া ৭, সিরাজগঞ্জ ২ ও রাজশাহী ২।
ব্যক্তিগত ফলাফল: সবকটি আসনেই জয়লাভ করেন।
দলের ফলাফল: নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭৮টি আসনে জয়ী হয়। যদিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর তিন মাসের সময়কালের মধ্যেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস হয়।
১৯৯৬ সালের নির্বাচন (জুন):
৫টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন- বগুড়া ৬, বগুড়া ৭, ফেনী ১, লক্ষ্মীপুর ২ ও চট্টগ্রাম ১।
ব্যক্তিগত ফলাফল: সবকটি আসনেই জয়ী হন। ফেনী ১ আসনটি নিজের জন্য রেখে বাকি চারটি আসন ছেড়ে দেন।
দলের ফলাফল: নির্বাচনে বিএনপি ১১৬টি আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব লাভ করে। বিরোধীদলীয় নেত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন খালেদা জিয়া।
৫টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন- বগুড়া ৬, বগুড়া ৭, খুলনা ২, ফেনী ১ ও লক্ষ্মীপুর ২।
ব্যক্তিগত ফলাফল: আবারও সবকটি আসনেই জয়ী হন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে তিনটি আসনে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পান তিনি। এবারে বগুড়া ৬ আসনটি রেখে ছেড়ে দেন অন্য আসনগুলো। উল্লেখ্য, বগুড়া ৬ আসনে তিনি রেকর্ড ৭৮.৯ শতাংশ ভোট (২,২৭,৩৫৫ ভোট) পেয়েছিলেন।
দলের ফলাফল: নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে দিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন খালেদা জিয়া।
২০০৮ সালের নির্বাচন:
৩টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন- বগুড়া ৬, বগুড়া ৭ ও ফেনী ১।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে একজন সর্বোচ্চ ৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিধান তৈরি হলে বাধ্য হয়ে ৩টি আসনে নির্বাচন করেন খালেদা জিয়া।
ব্যক্তিগত ফলাফল: এবারও বিশাল ব্যবধানে প্রতিটি আসনেই জয়লাভ করেন খালেদা জিয়া। ফেনী ১ আসনটিতে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাকি আসনগুলো ছেড়ে দেন তিনি। ছেড়ে দেওয়া দুটি আসন বগুড়া ৬ ও বগুড়া ৭-এ তিনি যথাক্রমে ১,৯৩,৭৯২ এবং ২,৩২,৭১৬ ভোট পান।
দলের ফলাফল: নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেলেও, নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ রাখতে সমর্থ হন খালেদা জিয়া, যার প্রতিফলন ঘটে বগুড়া ৬, বগুড়া ৭ ও ফেনী ১ আসনের ফলাফলে।