পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারে চারটি আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আসন কক্সবাজার-১। কক্সবাজার জেলায় মোট ভোটার ১৮ লাখ ২৯ হাজার ১৪২ জন। যার মধ্যে শুধু চকরিয়া ও পেকুয়া আসনেই রয়েছেন ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯ জন ভোটার।
চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলা নিয়ে কক্সবাজার-১ আসনের এবারের ভোট যুদ্ধ হবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের মধ্যে। আসনটিকে বিএনপির দুর্গ বলা হলেও বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ জামায়াত। ভোটারদের মন জয় করতে পার করছেন ব্যস্ত সময়।
এক সময়ের জোটের শরীক হলেও এখন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জামায়াত। নয় বছর পর ভারতের শিলং থেকে ফিরে কক্সবাজার-১ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে এই হেভিওয়েট প্রার্থীর জয়রথ রুখতে মাঠে নেমেছেন জামায়াতে ইসলামীর তরুণ নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক।
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আবদুল কাদের প্রাইম বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে মাঠ ছাড়লেও, বিএনপির দুর্গে দখল নিতে চায় জামায়াত। নির্বাচনী পথসভায় জামায়াতের বিরুদ্ধে ধর্মকে ব্যবহারের অভিযোগ সালাহউদ্দিন আহমেদের। তিনি বলেন, ‘সমাজের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কোনো পরিকল্পনা না দিয়ে জামায়াত শুধু ইসলামের দোহাই দিয়ে ধর্ম বিক্রি করছে। এ বিষয়গুলো আপনাদের দেখতে হবে।’
পাল্টা বক্তব্যে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি জামায়াত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকের। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি সকলের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করব।’
শুধু চকরিয়া-পেকুয়া নয়, কক্সবাজারের চারটি আসনেই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত দেখছেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না।
তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সদস্য সরওয়ার আলম বলেন, ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হওয়ার মতো পরিবেশ এখনও হয়নি। নির্বাচনের এখনও মাসখানেক বাকি আছে। এ সময়টা ঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে আগামী ১২ তারিখ একটি সুন্দর নির্বাচন সম্ভব।’