যশোর-৩ আসনে নতুন দুর্গ গড়তে চায় বিএনপি, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্ত অবস্থানে জামায়াত

যশোর-৩ আসনে এবার প্রার্থী হিসেবে আলোচনর শীর্ষে আছেন বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আর জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের। ধারণা করা হচ্ছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই। তাই এই দুজনকে নিয়েই বারবার চায়ের কাপে ঝড় উঠছে যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে। জয় নিশ্চিত করে আসনটিকে নিজেদের নতুন দুর্গ হিসেবে গড়তে চায় বিএনপি। আর জামায়াতের আব্দুল কাদেরের অনুপ্রেরণার উৎস তাঁর পক্ষে দলের প্রশ্নাতীত ঐক্য।

যশোর সদর উপজেলার প্রায় পুরোটা নিয়ে গঠিত যশোর- ৩ নির্বাচনী আসন। এ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টি এবং যশোর পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোর-৩ আসন। যার মোট ভোটার ৬ লাখ ৮ হাজার ৬৯৫ জন। এ আসনের ভোটারেরা বরাবরই প্রমাণ করেছেন তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি অন্ধ নন। কখনও বিএনপি, কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও জাতীয় পার্টি, আবার কখনও জাসদও জয় পেয়েছে এ আসনে।

এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তরুণ নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বিএনপির সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছোট ছেলে। জয় পেলে বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আসনটি থেকে অমিতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াত নেতা আবদুল কাদের। তিনি ভিপি কাদের নামেও পরিচিত। নির্বাচনে নতুন মুখ হলেও ভিপি কাদেরকে বিজয়ী করতে একাট্টা স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা নির্বাচন পরিচালক গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘এবার আমরা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যে আগ্রহ-উদ্দীপন লক্ষ্য করছি, সেটি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আসবে বলেই আমরা মনে করছি। আমাদের যে প্রার্থী, তিনি ভিপি হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষদের মধ্যে তাঁর অন্যরকম গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।’

এ আসনে লড়ছেন তরুণ সমাজের প্রতিনিধি রাশেদ খানও। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী হয়ে লড়বেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এ আহ্বায়ক। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছিলেন রাশেদ। তিনি বলেন, ‘আমার ইচ্ছে শোষিত মানুষের পাশে থাকা। আমি দীর্ঘ ১২ বছর ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। সেই জায়গা থেকেই আমার লড়াইটা জারি আছে। নির্বাচন আমার কাছে এ লড়াইয়ের একটা অংশ।’