ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর মিছিল শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত জানিয়ে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, বহিরাগতদের উসকানিতে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মঙ্গলবার দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
এতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার যে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার জন্য আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।’
দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সর্বদা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং যেকোনো গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের চড়াও হওয়া বা সহিংসতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, ‘ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত কিছু অতি-উৎসাহী ব্যক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত বহিরাগতদের উসকানিতে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা কোনো উগ্র আচরণকে জামায়াতে ইসলামী কখনোই প্রশ্রয় দেয় না।’
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এই ঘটনার পেছনে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে। যদি আমাদের কোনো স্তরের কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ফ্যাসিবাদমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ক্রান্তিলগ্নে গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি বা ফাটল সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি এই বিবৃতির পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।’
ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জামায়াত আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।