গুম আইন নিয়ে শঙ্কা, সতর্ক থাকার আহ্বান

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধে যে আইন হচ্ছে, তাতে তদন্তের নামে সত্য আড়াল হওয়ার শঙ্কা রয়ে যাবে। এতে বিচারও অনিশ্চিত হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হবে। মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইনের পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ বিষয়ে এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি। এতে অংশ নেন রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। সভায় মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধবিষয়ক খসড়া আইনটির সমালোচনা করেন বক্তারা।

আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলম বলেন, 'আমি যে মৌলিক জিনিসটা নিয়ে এত আলাপ হচ্ছিল সেটা নিয়েই বলি যে, কে বিচার করবে সেটা ভাবারই ব্যাপার। ধর্ষিত যে, সে ধর্ষকের কাছে বিচার আশা করবে এটাতো ভাবার কোনো কারণ নেই।'

এই আইন প্রসঙ্গে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, 'কেন আমরা ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা রাখি না, সকল রাজনৈতিক দল। এখান থেকে আমরা ছোট যে রাজনৈতিক দল, আমরা বাইরে আছি ব্যাপারটা তা না, আমরা সবাই- এটি একটি জাতীয় সমস্যা। এবং এটি একটি সাংস্কৃতিক সমস্যাও।'

এনসিপি'র সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, সরকার গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে নিজেদের সুবিধামতো আইন করতে গিয়ে উল্টোপথে হাঁটছে।

তিনি বলেন, 'তাদের উদ্দেশ্যই ছিল এটা, যাতে করে তারা তাদের মতো করে আইনগুলোকে তারা নির্ধারণ করতে পারেন, আইনগুলোকে তারা লিখতে পারেন। এবং আমরা তাদের কাছ থেকে সেটাই দেখলাম, যে সরকার আরও ভালো আইন আনার কথা বলে বরং আরও উল্টোপথে তারা পা বাড়িয়েছে।'    

সরকারের কিছু কাজের সমালোচনা করে রাষ্ট্র ও সমাজের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি জানি না, বিএনপিকে কোন ভূতে পেয়েছে। বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেগুলো রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে স্বাধীন, সেগুলোকে স্বাধীন রাখা অত্যন্ত জরুরি সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার জন্য, জবাবদিহিতার জন্য। সেইগুলোকে উনারা নির্বাহী বিভাগের ভেতরে নিয়ে আসছেন। 

মানবাধিকার ও গুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন বক্তারা।