‘বাংলাদেশ-জাপান হিউম্যান রিসোর্স ম্যাচিং সেমিনার’ অনুষ্ঠিত

জাপানের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সিজুওকা শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘গ্র্যানশিপ’ কনভেনশন সেন্টারে সোমবার ‘বাংলাদেশ-জাপান হিউম্যান রিসোর্স ম্যাচিং সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাপাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনি অ্যান্ড স্কিল্ড ওয়ার্কার কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (JITCO)-এর যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনার ও দ্বিপাক্ষিক নেটওয়ার্কিং ইভেন্টটি আয়োজিত হয়।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী দুই দেশের মধ্যকার সুদীর্ঘ ও বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “জাপানের শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান শ্রম চাহিদা এবং বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধার (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সংযোগ ঘটিয়ে দুটি দেশই যৌথভাবে উপকৃত হতে পারে। আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি শিল্প কাঠামোর উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।”

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৫০টিরও বেশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী জাপানি ভাষা শিখছেন। এছাড়া ৭টি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে দক্ষ কর্মী (SSW) খাতের মূল্যায়ন পরীক্ষা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং বিগত ছয় মাসে ১২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জাপানে আগমন করেছেন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জিটকো (JITCO)-এর সভাপতি শিনজি ওগাওয়া। তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মনিষ্ঠা, সততা ও জাপানি সংস্কৃতির সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বর্তমানে জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন এবং দক্ষ কর্মী (SSW) বিভিন্ন খাতে সুনামের সাথে কাজ করছেন। ভাষা ও দক্ষতার পরীক্ষায় বাংলাদেশি পরীক্ষার্থীদের পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলে জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের কাউন্সেলর মো: জয়নাল আবেদিন জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশি কর্মী গ্রহণে জাপানি কোম্পানির ক্রম বর্ধমান আগ্রহের সমন্বয়ে  বাংলাদেশি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জাপানে কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া  জোরদার করনে  সহযোগিতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি  বিষয়ক একটি  পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে জাপানি তদারকি সংস্থা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অংশ নেন।