প্রতি ৩ জনে দুই বয়স্ক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার

বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর স্ক্যাম হামলার ঘটনা বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তিমাধ্যম ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে প্রতারিত হওয়ার ঘটনা। দাতব্য সংস্থা রি-এনগেজড ও ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ পরিচালিত সামপ্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। টেকটাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে প্রতি তিনজন বয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে দুজন স্ক্যাম বা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এসব কারণে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ভয়, হতাশা ও আত্মঘঘাতী চিন্তাভাবনাও বেড়েছে। 

গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন ১ হাজার ১৭৭ জন বয়স্ক ব্যক্তি। তাঁদের ৪০ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা প্রতি মাসে কোনা না কোনোভাবে অবৈধ পন্থায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এসব অবৈধ পন্থার মধ্যে রয়েছে ল্যান্ডলাইন কল, সেলফোন কল ও টেক্সট মেসেজসহ টেলিফোনিক পদ্ধতি।

এদিকে জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ বয়স্ক ব্যক্তি বলেছেন, তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। আর ৭০ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা কখনোই অনলাইন ব্যাংকিং করেননি। এ কারণে তারা অনলাইন হ্যাকিং সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

৭৫ বা তার চেয়ে বয়সী মানুষদের একাকিত্ব দূরীকরণে ও সামাজিক অবস্থান তৈরিতে কাজ করছে দাতব্য সংস্থা রি-এনগেজমেন্ট। সংস্থাটি স্ক্যাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এসব বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রি-এনগেজমেন্ট বলেছে, তারা বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে স্ক্যাম বা প্রতারণা ঝুঁকির লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে ডাক্তার, সমাজকর্মী, ব্যাংক কর্মীসহ পেশাদারদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বিষয়ে আলোচনা করেছে।

রি-এনগেজডের ইমপ্যাক্ট বিভাগের প্রধান লরা জোপলিন বলেন, ‘এ ধরনের প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে যে ভয় সৃষ্টি হয়েছে, তা সত্যিই আশঙ্কাজনক। এ ধরনের স্ক্যাম তাদের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা ও মানসিক চাপ তৈরি করছে। আমরা যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তাদের অনেকেই এখন ফোনকল ধরতে খুব ভয় পাচ্ছেন। তাদের ধারণা এর মাধ্যমে আবারো তাদের অর্থ চুরি করার চেষ্টা করতে পারে। এটি তাদের জীবনযাত্রার মানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের সেন্টার ফর সাইবার ক্রাইম অ্যান্ড ইকোনমিক ক্রাইমের সহপরিচালক অধ্যাপক মার্ক বাটন বলেন, বেশির ভাগ সময়ই স্ক্যামের ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসে না। কারণ সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। স্ক্যাম বা প্রযুক্তি মাধ্যমে প্রতারণার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করা জরুরি।