চাঁদের পথে ১০ দিন, কেমন ছিল সেই যাত্রা? জানালেন মহাকাশচারীরা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

মানুষের চাঁদ জয়ের গল্প নতুন নয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই গল্প যেন একটু থমকে গিয়েছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর আবারও চাঁদের পথে মানুষের যাত্রা। এই খবরেই সাড়া পড়ে যায় বিশ্বজুড়ে। আর সেই অভিযানের অভিজ্ঞতা মহাকাশচারীরা নিজের মুখেই জানালেন।

চাঁদকে ঘিরে ঐতিহাসিক মিশন শেষ করে পৃথিবীতে ফিরেছেন চার মহাকাশচারী। ফিরেই তাঁরা হয়ে উঠেছেন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এক সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তাঁরা। রোমাঞ্চ, ভয় আর ঝুঁকি। সবমিলে এই যাত্রা ছিল তাঁদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।

এই মিশনে ছিলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার মহাকাশ সংস্থার জেরেমি হ্যানসেন। তাঁদের এই ১০ দিনের অভিযান ছিল বিশেষ। কারণ ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো মিশনের পর এই প্রথম কোনো মানববাহী দল চাঁদের এত কাছে পৌঁছাল। শুধু তাই নয়। তাঁরা ইতিহাসে সবচেয়ে দূর পর্যন্ত মহাকাশে ভ্রমণের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন।

পৃথিবীতে ফিরে এসে সবচেয়ে বেশি যেটা তাঁদের নাড়া দিয়েছে, তা হলো মানুষের ভালোবাসা। রিড ওয়াইজম্যান বলেন, ‘এই মিশনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে গর্ব ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা তাঁদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।’

ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, ‘মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারা তাঁদের কাছে প্রযুক্তিগত সাফল্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁদের লক্ষ্য ছিল এই মিশনকে ‘বিশ্বের মিশন’ হিসেবে গড়ে তোলা।’

মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তটি হলো ‘রিএন্ট্রি। যখন মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। তখন যানটির গতি থাকে শব্দের গতির ৩০ গুণেরও বেশি। এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘মনে হচ্ছিল, যেন কোনো আকাশচুম্বী ভবন থেকে উল্টো দিকে ঝাঁপ দিয়েছি, ঠিক পাঁচ সেকেন্ডের জন্য।’

মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তটি হলো ‘রিএন্ট্রি। ছবি: এক্স হ্যান্ডেল থেকে

প্যারাসুট খোলার আগে কিছু সময় মহাকাশযান হঠাৎ করে মুক্তভাবে নিচে নামতে থাকে। সেই কয়েক সেকেন্ডই ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর।

এ সময় অতিরিক্ত গতির কারণে যানের চারপাশে প্লাজমা তৈরি হয়। যার ফলে প্রায় ছয় মিনিট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তাপমাত্রা উঠেছিল প্রায় ৫ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত। এই ভয়ংকর তাপ থেকে মহাকাশচারীদের রক্ষা করেছে যানের বিশেষ হিট শিল্ড।

এই মিশনে ব্যবহৃত হিট শিল্ড পুরোপুরি নিখুঁত ছিল না। মহাকাশচারীরা জানান, তাঁরা ‘চার লস’ নামে একটি সমস্যার আভাস পেয়েছিলেন। যেখানে হিট শিল্ডের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবুও ওয়াইজম্যান বলেন, ‘পুরো যাত্রা ছিল মসৃণ। এখন তাঁরা অপেক্ষা করছেন নাসার পূর্ণ বিশ্লেষণের জন্য।’

মহাকাশে গিয়ে যখন তাঁরা দেখছিলেন পৃথিবী ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে, তখন তৈরি হয়েছিল ভিন্ন এক অনুভূতি। প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার মাইল দূরে পৌঁছানোর পর মানসিক চাপও কিছুটা বাড়তে থাকে।

ওয়াইজম্যান বলেন, ‘প্রতিদিন নিজেকে লক্ষ্য করতাম, কোথাও চাপ, উদ্বেগ বা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে কি না।’

গ্লোভারও বলেন, ‘এমন মিশনে মানসিক প্রস্তুতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন বিশেষজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীরা।’

একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে তাঁদের সম্পর্কও বদলে গেছে। তাঁরা এখন শুধু সহকর্মী নন, হয়ে উঠেছিলো পরিবারের মতো। ছোট্ট মহাকাশযানে একসঙ্গে থাকা, নানা সমস্যার মোকাবিলা। সবকিছুই তাঁদের আরও কাছাকাছি এনেছে।

মজার বিষয় হলো, পৃথিবীতে ফিরে জাহাজে আলাদা বিছানায় শোয়ার সময় তাঁদের অস্বস্তি লাগছিল। ক্রিস্টিনা কোচ হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমরা প্রায় আট ফুট দূরে ছিলাম, আর সেটাই অনেক বেশি মনে হচ্ছিল।’

মহাকাশচারীরা বলছেন, ভবিষ্যতে যদি চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়তে হয়, তাহলে আরও ঝুঁকি নিতে হবে। জেরেমি হ্যানসেনের ভাষায়, ‘আগের চেয়ে একটু বেশি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

এই মিশন শুধু একটি সফল মহাকাশ অভিযান নয়। বরং মানুষের সাহস, স্বপ্ন আর একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার এক প্রতীক। চাঁদকে ঘিরে এই যাত্রা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষ চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে। আর সেই পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কৌতূহল, সাহস এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক। তাঁর মতে, এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। 
ডিজিটাল প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের সেবা নেওয়া কিছু মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে গিয়েছে জানিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বুধবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক...
১২ মাসের মধ্যে নিজস্ব সার্বভৌম এআই ডেটা সেন্টার চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ। তবে অবকাঠামো তৈরির স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর...
বাংলাদেশের বাজারে নতুন সি-সিরিজের স্মার্টফোন রিয়েলমি সি১০০ আনতে যাচ্ছে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিয়েলমি। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, টেকসই নকশা, পানি ও ধুলা প্রতিরোধী সুবিধা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের...
যারা একসময় হরতাল অবরোধ দিয়ে দেশকে অচল করে দেওয়া হবে বলেছিল, আজকের বিরোধী দল তাদেরই সঙ্গী বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার রাতে...
দেশে টানা কয়েক বছর ধরে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, চার বছরে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ৮০ লাখ মানুষ। একই সঙ্গে বেড়েছে ধনী-গরিব আয় বৈষম্য। দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে থাকা প্রায় ৬ কোটি ২০...
ইয়েমেনের তাইজে হুতি বিদ্রোহীদের ১৬ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে সেনাবাহিনী। এছাড়া ৮ ঘণ্টার দীর্ঘ লড়াইয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলেও জানায় তারা।
জুলাই সনদ সই হওয়ার এক বছর আজ। বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। সরকার বারবার বলেছে, নোট অব ডিসেন্টসহ সনদ বাস্তবায়ন করবে তারা। তবে একথা মানতে নারাজ বিরোধীরা। দুপক্ষের মধ্যে সংবিধান সংশোধন আর সংস্কার...
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর