কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে বড় অংকের বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা। আগামী তিন বছরে নিজেদের এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিং সেবার অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৩৮০ বিলিয়ন ইউয়ান (৫২.৪৪ বিলিয়ন ডলার) খরচ করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশী মুদ্রায় বিনিয়োগের অংকটা ৬ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। আজ (সোমবার) গণমাধ্যমকে বিশাল এই বিনিয়োগ সম্পর্কে অবগত করেছে জ্যাক মা প্রতিষ্ঠিত আলিবাবা।
গত শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) অক্টোবর-ডিসেম্বর কোয়ার্টারের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই নতুন এই বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল অ্যামাজনের। সেটাই আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল চীনের শীর্ষ এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, ডিসেম্বরে শেষ হওয়া কোয়ার্টারে প্রতিষ্ঠানটির আয় (২৮০.১৫ বিলিয়ন ইউয়ান) বাজার বিশ্লেষকদের অনুমানকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আলিবাবার নতুন বিনিয়োগের বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে গত এক দশকে তাঁরা যে পরিমাণ খরচ করেছে, এবার তার চেয়েও বেশি আগামী ৩ বছরে বিনিয়োগ করতে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। বছরের শুরুটা আলিবাবার জন্য বেশ ভালোই হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত আলিবাবার বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৮ শতাংশ।
এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো খাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগের বিষয়টি অবশ্য নতুন কিছু নয়। এ বছর মাইক্রোসফট, মেটার মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই এআই প্রযুক্তি খাতে বড় অংকের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। ক্রমশ দীর্ঘ হতে যাওয়া এ তালিকায় নতুন সংযোজন এবার আলিবাবা। তবে তালিকাটা যে আলিবাবা’তেই শেষ হচ্ছে না তার ইঙ্গিতও বেশ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে গত মাসে চীনের ডিপসিক এআই’র আগমনের পর থেকে এই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ আকর্ষণের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে চীন।
আলিবাবা’র মতো চীনের অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও সাম্প্রতিক সময়ে এআই খাতে বড় অংকের বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে। টিকটিকের মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স চলতি বছর ১৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যেটা মূলত এআই প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে বলে প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স