ডেলিভারি সিস্টেমে মানবসদৃশ রোবট যুক্ত করছে অ্যামাজন

আমেরিকান ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের ফুলফিলমেন্টার সেন্টারগুলোতে রোবটের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অ্যামাজনের ডেলিভারি ব্যবস্থায় সক্রিয় আছে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি রোবট। এবারে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশন বলছে, অচিরেই অ্যামাজনের ডেলিভারি ব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে এআই সফটওয়্যার-নির্ভর হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট।

অ্যামজনের নতুন এই উদ্যোগের বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে গত বুধবার (৪ জুন) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ইনফরমেশন। সেখানে বলা হয়েছে, অ্যামাজন তাঁদের ডেলিভারি ব্যবস্থায় মানবসদৃশ (হিউম্যানয়েড) রোবট নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে এবং এই রোবটকে পরিচালনার জন্য তাঁরা এআই সফটওয়্যার তৈরি করছে। এই রোবটগুলো এক সময় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের জায়গা নিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, মানবসদৃশ এই রোবটগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য অ্যামাজন একটি ‘হিউম্যানয়েড পার্ক’ তৈরি করছে, যেটার নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। এই পার্কটি হচ্ছে একটি ইনডোর ফ্যাসিলিটি (আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা), যেখানে মানবসদৃশ রোবটগুলোর জন্য বিভিন্ন প্রকার শারীরিক বাঁধা তৈরি করে পরীক্ষা করা হবে। 

উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে অ্যামাজনের অফিসেই তৈরি হচ্ছে এই হিউম্যানয়েড পার্কটি। তবে পরীক্ষার জন্য আপাতত অ্যামাজন অন্য প্রতিষ্ঠানের হার্ডওয়্যার ব্যবহার করবে বলে প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য মানবসদৃশ রোবট, এআই সফটওয়্যার এবং হিউম্যানয়েড পার্কসহ আরও বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে অ্যামাজন। অর্থাৎ, এআই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পণ্য ডেলিভারি সিস্টেমকে ঢেলে সাজাতে চাইছে অ্যামাজন, যেখানে আরও দ্রুততার সাথে এবং কার্যকর উপায়ে গ্রাহকের হাতে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। 

এখন দেখার বিষয়, এআই এবং মানবসদৃশ রোবটের উপস্থিতিতে মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয় কি-না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স