বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে রীতিমতো উল্কার গতিতে। এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোই। ২০২৫ সালে এআই প্রযুক্তিতে অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মেটা ও মাইক্রোসফট- এই চারটি ‘বিগ টেক’ প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বিনিয়োগ দাঁড়াতে পারে ৩৬৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগের অংকটা ৪৪ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সম্প্রতি ইয়াহু ফাইন্যান্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রাক্কলিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩২৫ বিলিয়ন ডলার। ছয় মাসের ব্যবধানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৯ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের এগিয়ে রাখতে কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, মেটা ও গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। এছাড়া এআই খাতে তীব্র প্রতিযোগিতার দিকেও ইঙ্গিত করছে এই বিষয়টি।
গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫ অর্থবছরে মাইক্রোসফট ৮৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার এআই খাতে বিনিয়োগ করেছে, যদিও প্রাথমিকভাবে তাঁদের বিনিয়োগের লক্ষ্য ছিল ৮০ বিলিয়ন ডলার। ধীরগতিতে হলেও ২০২৬ অর্থবছরে তাঁদের বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলেই জানিয়েছে উইন্ডোজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারে (জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে) মাইক্রোসফট ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যেটা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। এআই খাতের বিস্তৃত সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে মূলধনী ব্যয় এবং পরিচালন ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী (সিইও) অ্যামি হুড।
গত মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা ঘোষণা করে, চলতি বছর ৬৪ থেকে ৭২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তাঁরা। তবে সম্প্রতি সর্বনিম্ন বিনিয়োগের সংখ্যাটা ৬৬-তে উন্নীত করেছে তাঁরা। অর্থাৎ, ২০২৫ সালে ৬৬ থেকে ৭২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে তাঁরা। ডেটা সেন্টার নির্মাণসহ দক্ষ এআই কর্মী নিয়োগ দিতে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগের পরিকল্পনা আছে মেটা’র।
গুগলের মালিক প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট জানিয়েছে, চলতি বছর তাঁদের বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যদিও এর আগে ৭৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। ক্লাউড-ভিত্তিক পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যালফাবেট।
গত জানুয়ারিতে চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিক তাঁদের এআই অ্যাসিসট্যান্ট টুল রিলিজ করার পর মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ চাপের মুখে পড়ে। কেননা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভগ্নাংশ পরিমাণ খরচে ডিপসিক এমন এআই মডেল তৈরি করতে সমর্থ হয় যেটা সক্ষমতার দিক থেকে আমেরিকান টুলগুলোর প্রায় সমকক্ষ।
এই প্রেক্ষাপটে চীনের বাজারে এআই বিনিয়োগ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে মার্কিন মুলুকে বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তেমনটা হয়নি। বরং, বিনিয়োগ উত্তরোত্তর আরও বেড়েছে। তবে এআই খাতে বিনিয়োগের তুলনায় আয়ের পরিমাণ নগণ্যই বলা চলে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এআই থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে বলেই দাবি করেছে গুগল, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো ‘বিগ টেক’ প্রতিষ্ঠানগুলো।