যে কারণে ১ লাখ কোটি ডলারের পথে ওরাকল

এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদায় ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। এই প্রেক্ষাপটে রীতিমতো পোয়াবারো অবস্থা মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের। সম্প্রতি নিজেদের  ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসায় বেশ কয়েকটি মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পাদনের পর তাঁদের শেয়ার দরে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বাজারমূল্যের দিক থেকে ওরাকল এখন ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের প্রতিষ্ঠান হওয়ার পথে। বাংলাদেশী মুদ্রায় অর্থের অংকটা ১২১ লাখ কোটি টাকারও বেশি।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি তৈরির সময় ওরাকলের বাজারমূল্য ছিল ৯২২ বিলিয়ন ডলার। গত পাঁচ দিনে তাঁদের শেয়ার প্রতি দর ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই খাতে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে কিম্পিউটেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে। এজন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচও করছে তাঁরা। ফলে ওরাকলের মতো ক্লাউড কম্পিউটিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারই প্রতিফলন ঘটেছে শেয়ার বাজারে ওরাকলের শেয়ারমূল্যে।

এআই ক্লাউডের ব্যবসায় বেশ ক’টি চুক্তি সম্পাদনের কারণে গত কয়েক দিন ধরে শেয়ার বাজারে ওরাকলের শেয়ারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বেড়েছে দামও। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই ১ ট্রিলিয়ন ডলার ক্লাবের নতুন সদস্য হতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি, যারা ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের পাশাপাশি এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের ব্যবসাতেও দারুনভাবে সক্রিয়।

উন্নত ও বর্ধিত কম্পিউটিং সক্ষমতা ছাড়া এআই’র জগতে সুবিধা করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতায় টেক জায়ান্টরা ওরাকলের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা গ্রহণ করে থাকে। কেননা ডেটা সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে নিজস্ব উদ্যোগে কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে হলে প্রয়োজন বিশাল অংকের বিনিয়োগ। তার চেয়ে বরং তুলনামূলক কম খরচে ক্লাউড কম্পিউটিং পরিষেবা নিয়ে নিজেদের কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, ক্লাউড কম্পিউটিং বিজনেসে ওরাকলের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট ও অ্যামাজন। 

এদিকে ওরাকলের বাজারমূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে সম্পদ বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনেরও। প্রতিষ্ঠানটিতে ৪১ শতাংশ মালিকানা থাকায় এখন তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ক্লাউড ব্যবসায় ওরাকলের ঊর্ধ্বমুখী যাত্রা অব্যাহত থাকলে বিশ্বের সর্বোচ্চ ধনী মাস্ককে (৪৩৯.৯ বিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে যেতে আর হয়তো খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না এলিসনকে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স