ক্লাউড খাতে ৩০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করবে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা

ক্লাউড প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেদের কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে ৫ বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে চলেছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই। বাংলাদেশি মুদ্রায় অর্থের অংকটা ৩৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি। এ বিষয়ে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওরাকলের সাথে সম্প্রতি একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে ওপেনএআই। বিষয় সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। 

এআই জগতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্নভাবে নিজেদের কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করে চলেছে। তাঁদের মধ্যে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বিশাল অংকের বিনিয়োগে তৈরি করছে নিজস্ব ডেটা সেন্টার। কিন্তু অনেকেই তুলনামূলক কম খরচে ওরাকলের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্লাউড সেবা নিচ্ছে।

ওরাকলের সাথে ওপেনএআই’র সাম্প্রতিক এই চুক্তিটিকে ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে সম্পাদিত সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর একটি বলে অভিহিত করা হয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির বদৌলতে বুধবার বাজারে ওরাকলের শেয়ারে ৪৩ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। আজ শুক্রবার তাঁদের বাজারমূল্য কিছুটা কমে এলেও (বর্তমানে ৮৬৪ বিলিয়ন ডলার) ১ ট্রিলিয়ন ডলার ক্লাবের সদস্য হওয়ার পথে তাঁরা অনেক দূর এগিয়েছে।

উল্লেখ্য, আগস্টে শেষ হওয়া গত প্রান্তিকে ওরাকল ৩১৭ বিলিয়ন ডলারের নতুন ক্লাউড চুক্তি পেয়েছে। প্রধান নির্বাহী সাফরা কাটজ্‌ জানিয়েছেন যে, জুন থেকে আগস্ট- এই তিন মাসে তাঁর প্রতিষ্ঠান ক্লাউড সেবায় তিনটি ভিন্ন ভিন্ন গ্রাহকের সাথে নতুন চুক্তি সম্পাদন করেছে। 

ওপেনএআই ও ওরাকলের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিটি শুরু হবে আগামী ২০২৭ সালে। তবে চুক্তিটি দু’পক্ষের জন্যেই কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। ৫ বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিতে প্রতি বছর ৬০ বিলিয়ন ডলার করে খরচ করতে হবে ওপেনএআই-কে। অথচ বর্তমানে তাঁদের বার্ষিক আয় মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবেও প্রতিষ্ঠানটি এখনও লাভের মুখ দেখেনি। 

অন্যদিকে ওরাকলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি হলো, এই চুক্তির ফলে ভবিষ্যৎ আয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট একটি গ্রাহকের (এক্ষেত্রে ওপেনএআই) ওপর অতি-নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, চুক্তি অনুযায়ী সেবা দিতে তাঁদের প্রয়োজন হবে প্রচুর এআই চিপের, যেগুলো দিয়ে ডেটা সেন্টারগুলোকে সচল রাখা হবে। এআই চিপের যোগান দিতে ওরাকলকে হয়তো বড় অংকের ঋণও করতে হতে পারে।

তবে মোদ্দা কথা হচ্ছে, এআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউই বলতে গেলে এখনও লাভের মুখ দেখেনি। অচিরেই দেখবে এমন সম্ভাবনাও কম। এ খাতে বড় অংকের বিনিয়োগগুলো মূলত এই আশাতেই হচ্ছে যে, এক সময় তাঁদের উদ্যোগগুলো লাভজনক হয়ে উঠবে। কেননা এআই’র মতো উদ্ভাবনী ও বিঘ্নকারী (ডিসরাপটিভ) প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ না করে বসে থাকার অর্থ হচ্ছে, ক্রমাগতভাবে সক্ষমতা হারানো এবং এক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়া।

এমনটা নিশ্চয়ই চাইবে না ওপেনএআই। সেজন্যে তাঁরা এখন নতুন করে বিনিয়োগ উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সম্প্রতি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী ফান্ডিং রাউন্ডে নিজেদের বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার ধার্য করারও পরিকল্পনা রয়েছে ওপেনএআই’র।

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স