ডিপসিক এআই মডেল তৈরির খরচ নিয়ে যা জানা গেল

চলতি বছরের জানুয়ারি’তে এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট টুল নিয়ে এসে প্রযুক্তি বিশ্বে রীতিমতো আলোড়ন তৈরি করেছিল চীনের হাংঝু-ভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান ডিপসিক। আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অতি স্বল্প খরচে তৈরি তাঁদের ‘আর১’ রিজনিং এআই মডেলটি তখনই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এবারে জানা গেল মডেলটি তৈরিতে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অ্যাকাডেমিক জার্নাল নেচার-এ প্রকাশিত একটি পিয়ার-রিভিউড নিবন্ধে ডিপসিক জানিয়েছে যে, ‘আর১’ মডেলটি তৈরিতে তাঁদের খরচ হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় অর্থের অংকটা সাড়ে তিন কোটি টাকারও বেশি। উল্লেখ্য, ওপেনএআই, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো মার্কিন শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের এআই মডেল তৈরিতে এর চেয়ে অনেক বেশি খরচ করে থাকে। 

স্বাভাবিকভাবেই ডিপসিকের ‘আর১’ মডেলের খরচের অংকটা সামনে চলে আসায় এআই প্রযুক্তিতে চীন-মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসবে। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে ডিপসিক বাজারে আসার পর বিনিয়োগকারীরা মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কিছু সময়ের জন্য মুখ ফিরিয়ে নেয়। এই প্রেক্ষাপটে শেয়ারে বাজারে এক দিনেই প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার হারায় মার্কিন এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া। 

অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার বাইরে ছিল ডিপসিক এবং এর প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেং। তবে গত মাসেই তাঁরা ‘ডিপসিক ভি৩.১’ (ভিথ্রি ডট ওয়ান) নামের নতুন একটি এআই মডেল বাজারে এনেছে। এমআইটি লাইসেন্সের অধীনে রিলিজ করা এই মডেলটি হাইব্রিড আর্কিটেকচার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। থিংকিং ও নন-থিংকিং দুটি মোডেই ব্যবহার করা যায় এটি। 

উল্লেখ্য, বেশ কয়েকটি বেঞ্চমার্কে দেখা গেছে যে, ডিপসিকের পূর্ববর্তী মডেল ‘ভি৩’ ও ‘আর১’ এর তুলনায় নতুন হাইব্রিড মডেলটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি শক্তিশালী।

নেচার-এ প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে যে, ডিপসিকের ‘আর১’ রিজনিং এআই মডেলটির প্রশিক্ষণে এনভিডিয়ার তৈরি ৫১২টি এইচ৮০০ এআই চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। সার্বিকভাবে মডেলটিকে প্রশিক্ষণ দিতে খরচ হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার মার্কিন ডলার। 

চ্যাটজিপিটি’র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) স্যাম অল্টম্যান ২০২৩ সালে জানিয়েছিলেন যে, ফাউন্ডেশনাল এআই মডেলের প্রশিক্ষণে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হয়েছে। যদিও ওপেনএআই’র তরফ থেকে তাঁদের বিভিন্ন এআই মডেল তৈরির খরচ সম্পর্কে কখনও কিছু জানানো হয়নি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেলকে (এলএলএম) প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজন হয় একগুচ্ছ উচ্চ সক্ষমতার শক্তিশালী এআই চিপ। বিপুল পরিমাণ টেক্সট ও কোড প্রক্রিয়াকরণের জন্য এই চিপগুলোকে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে চালাতে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে যে খরচ হয় সেটাই হচ্ছে নির্দিষ্ট এআই মডেলটির প্রশিক্ষণ ব্যয়। 

নিজেদের এআই মডেলের উন্নয়নে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও খরচের প্রসঙ্গে ডিপসিকের বিবৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং তাঁদের কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, এনভিডিয়ার এইচ৮০০ চিপ বৈধ প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করেনি ডিপসিক। শুধু তাই নয়, চলতি বছর জুন মাসে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, ডিপসিকের কাছে এইচ১০০ চিপেরও বিশাল মজুদ রয়েছে। 

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এনভিডিয়া জানিয়েছে যে, ডিপসিক আইনগত প্রক্রিয়াতেই এইচ৮০০ চিপ ক্রয় করেছে এবং চীনা প্রতিষ্ঠানটির কাছে এইচ১০০ চিপ নেই।

উল্লেখ্য, এনভিডিয়ার তৈরি উচ্চ সক্ষমতার এইচ১০০ ও এ১০০ এআই চিপ দুটি চীনের বাজারে রপ্তানির ওপর ২০২২ সালের অক্টোবরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকার পূর্ববর্তী জো বাইডেন সরকার। এরপর চীনের বাজারে রপ্তানির জন্য নতুন এইচ৮০০ চিপটি তৈরি করে এনভিডিয়া।

নেচারে প্রকাশিত নিবন্ধে ডিপসিক প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, তাঁদের কাছে এনভিডিয়া’র এ১০০ চিপ রয়েছে। ‘আর১’ মডেল তৈরির প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে তাঁরা এ১০০ চিপ ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স