শিক্ষার্থীদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই যুগে বিশ্বজুড়েই বাড়ছে চ্যাটজিপিটি’র মতো টুলের ব্যবহার। এবারে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড) শিক্ষার্থীদের জন্য এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্প্রতি জানিয়েছে যে, এবার থেকে তাঁদের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় চ্যাটজিপিটি’র শিক্ষা সংস্করণ ‘চ্যাটজিপিটি এডু’ ব্যবহার করতে পারবে।

ওপেনএআই’র তৈরি এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি’র বিশেষ একটি সংস্করণ হচ্ছে ‘চ্যাটজিপিটি এডু’। এটি মূলত গবেষণার মতো শিক্ষামূলক কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিগত এক বছর সফলতার সাথে পরীক্ষানিরীক্ষার পর এবারে চ্যাটজিপিটি’র এই শিক্ষা সংস্করণটিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

পৃথিবীব্যাপী চ্যাটজিপিটি’র ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের এই টুলটি ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যুক্তরাজ্যের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করে যে, তাঁরা ওপেনএআই’র সাথে ৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। এই চুক্তির অংশ হিসেবেই এবারে অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা ‘চ্যাটজিপিটি এডু’ টুলটি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

‘চ্যাটজিপিটি এডু’ টুলটি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়টিকে তাঁদের ‘চলমান ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল প্রযুক্তিবিষয়ক প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক অ্যান ট্রেফেথেন।

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই টুলটি ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ-প্রভাবশালী, কৌতূহলী গবেষণা ও উদ্ভাবন ত্বরান্বিত হবে, এবং যুগান্তকারী আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব হয়ে উঠবে।’ 

এ বিষয়ে অধ্যাপক অ্যান ট্রেফেথেন আরও বলেন, ‘আমাদের সকল শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য একটি সহজলভ্য উপকরণ হিসেবে চ্যাটজিপিটি এডু ব্যবহার করতে পারবে। নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী টুলটি ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁদের শিক্ষা আরও সমৃদ্ধ হবে। ফলে তাঁদের জন্য নতুন কিছু জানার ও তৈরি করার সুযোগ তৈরি হবে।’

উল্লেখ্য, ‘চ্যাটজিপিটি এডু’ সংস্করণটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ সংস্করণের তুলনায় চ্যাটজিপিটি’র শিক্ষা সংস্করণটি ব্যবহারকারীদেরকে বর্ধিত গোপনীয়তা ও সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রদান করা ডেটা তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছেই সংরক্ষিত থাকবে।

উল্লেখ্য, অক্সফোর্ডের সকল শিক্ষার্থীর জন্য ‘চ্যাটজিপিটি এডু’ টুলটি উন্মুক্ত করার আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে পরীক্ষামূলক একটি প্রকল্প (পাইলট স্কিম) পরিচালনা করা হয়েছে। 

এআই প্রযুক্তি কীভাবে উচ্চ শিক্ষাকে সমৃদ্ধ করতে পারে তাঁর একটি মানদণ্ড স্থাপন করেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ, এমনটাই মনে করেন ওপেনএআই’র আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রধান জায়না দেভানি। 

তিনি বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি এডু-কে সবার জন্য উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অক্সফোর্ড তাঁদের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও কর্মীদেরকে প্রয়োজনীয় এআই দক্ষতা, উপকরণ এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে এমনভাবে তৈরি করছে যাতে করে তাঁরা এই রূপান্তরকারী প্রযুক্তি থেকে সত্যিকার অর্থে উপকৃত হতে পারে এবং এআই প্রযুক্তির এই যুগে সফল হতে পারে।’ 

শিক্ষার্থীদের কাছে সফটওয়্যারটি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চ্যাটজিপিটি এডু এবং অন্যান্য জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি-ভিত্তিক টুল কীভাবে ব্যবহার করতে তার প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে তাঁদেরকে। অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই প্রশিক্ষণে এআই প্রযুক্তির ‘নৈতিক ব্যবহার, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং দায়িত্বশীল প্রয়োগের’ ওপর জোর দেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি