মানববিহীন, এআই অস্ত্রের প্রদর্শনী শুরু দক্ষিণ কোরিয়ায়

শুক্রবার থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় শুরু হয়েছে দেশটির এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র প্রদর্শনী। হাউইৎজার থেকে শুরু করে সুইসাইড ড্রোন পর্যন্ত নতুন, মানববিহীন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন উন্নত সব অস্ত্র নিয়ে প্রদর্শনীতে হাজির হয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

সিউল ইন্টারন্যাশনাল অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স এক্সিবিশন (এডিইএক্স) ২০২৫ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক শক্তি আরও সুসংহত করা এবং বিশ্ববাজারে তাঁদের তৈরি অস্ত্রের বিক্রি বাড়ানো। আয়োজকরা জানিয়েছে, তিন দিনব্যাপী এই অস্ত্রমেলায় অংশ নিচ্ছে ৩৫টি দেশের রেকর্ড ৬০০টি প্রতিষ্ঠান।

রাজধানী সিউলের একটি এয়ারবেজে তিন দিনের পাবলিক এয়ার শোর মাধ্যমে শুরু হয়েছে এ বছরের সিউল ইন্টারন্যাশনাল অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স এক্সিবিশন (এডিইএক্স)। এয়ার শো’তে দেখা মিলবে দেশটির নতুন যুদ্ধবিমান কেএফ-২১। চলমান এই উৎসব শেষ হলে আগামী সপ্তাহে একটি বিশাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে ব্যবসায়িক প্রদর্শনী। 

এ মাসেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মায়ুং ঘোষণা করেছেন যে, আগামী বছর দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট ৮ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ওয়ানে দাঁড়াবে। মার্কিন মুদ্রায় সংখ্যাটা প্রায় ৪৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। বাজেট বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া এবং এই অঞ্চলের চারপাশে উত্তেজনা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই উত্তর কোরিয়াও তাঁদের অস্ত্র প্রদর্শনীতে বিদেশী অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সেখানে ড্রোন এবং পারমাণবিক সক্ষমতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে কিম জং উনের দেশ।

বৈশ্বিক অস্ত্রের বাজারে দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির দ্রুত বর্ধনশীল রপ্তানি পণ্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অস্ত্র। ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তাঁরা হাউইৎজার, গোলাবারুদ থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ পর্যন্ত সামরিক খাতের বিভিন্ন পণ্যের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স