বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। ইতোমধ্যেই সাইবার অপরাধ চুক্তি প্রণয়ন করেছে সংস্থাটি। সপ্তাহান্তে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে এই সাইবার অপরাধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের ৬০টি সদস্য রাষ্ট্র। গতকাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জাতিসংঘের সাইবার অপরাধ চুক্তিতে ৪০টি দেশ স্বাক্ষর করলেই এটি কার্যকর হয়ে যাবে বলে জানা গেছে। এটি কার্যকর হলে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সুসংগঠিত হবে বলে আশা জোড়া যাচ্ছে। তবে এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে পারে, এমন আশঙ্কায় এর সমালোচনা করেছেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ মানবাধিকার কর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘সাইবারস্পেস অপরাধীদের জন্য উর্বর ভূমি হয়ে উঠেছে... প্রতিদিন, অত্যাধুনিক সব কেলেঙ্কারি পরিবারগুলোকে প্রতারিত করছে, জীবিকা চুরি করছে এবং আমাদের অর্থনীতি থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বের করে নিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের সাইবার অপরাধ কনভেনশনটি সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোরদার করার একটি শক্তিশালী, আইনগতভাবে-বাধ্যতামূলক উপকরণ।’
জাতিসংঘের দাবি অনুযায়ী, সাইবার অপরাধ কনভেনশনটি ফিশিং, র্যানসমওয়্যার থেকে শুরু করে অনলাইন পাচার ও ঘৃণা বক্তব্য (হেট স্পিচ) পর্যন্ত বিস্তৃত পরিসরে সাইবার অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, সাইবার অপরাধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি প্রতি বছর আনুমানিক ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নতুন সাইবার চুক্তিকে ঘিরে জাতিসংঘ বেশ আশাবাদী হলেও বিভিন্ন সাইবার অপরাধগুলোর সংজ্ঞা স্পষ্ট না হওয়ায় এগুলো অপব্যবহারের সুযোগ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সমালোচকরা।
সাইবারসিকিউরিটি টেক অ্যাকর্ড এই চুক্তিটিকে একটি ‘নজরদারি চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে যে, এটি সরকারগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান সহজতর করতে পারে এবং সিস্টেম পরীক্ষা করা নৈতিক হ্যাকারদেরকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করতে পারে।
সাইবার চুক্তি নিয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম অফিস জানিয়েছে যে, এই চুক্তিতে মানবাধিকার সুরক্ষার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে এবং যেকোনো বৈধ গবেষণা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হয়েছে।