বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া!

ইতিহাসের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য ছুঁয়েছে এনভিডিয়া। গতকাল বুধবার দিনের লেনদেন শুরু হতেই অনন্য এই মাইলফলকটি স্পর্শ করে বিশ্বের শীর্ষ এআই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। বাজারমূল্যে তাঁদের পরের দুটি অবস্থানে আছে আইফোন নির্মাতা অ্যাপল এবং উইন্ডোজ নির্মাতা মাইক্রোসফট। 

গতকাল শেয়ার বাজারে দিনের শুরুতেই এনভিডিয়া’র শেয়ারদর ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি শেয়ারের দাম ২০৭ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়ায়। আর তাতেই ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ, বাংলাদেশি মুদ্রায় এনভিডিয়ার বাজারমূল্য ছাড়ায় ৬ কোটি ১১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। 

গতকাল দিনের শুরুতে এনভিডিয়ার বাজারমূল্য ছিল ৪ দশমিক ৮৯ ট্রিলিয়ন ডলার, যেটা ৫ ট্রিলিয়নে পৌঁছাতে খুব একটা সময় লাগেনি। উল্লেখ্য, দিনের লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত গতকাল ৫ ট্রিলিয়নের ঘরেই ছিল এনভিডিয়া। তবে আজ বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন লেখার সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য কিছু হ্রাস পেয়ে ৪ দশমিক ৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকালই (বুধবার) ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে যোগ দিয়েছে আরেক প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। তবে বর্তমানে ৪ ট্রিলিয়নের কিছুটা নিচে (৩ দশমিক ৯৯ ট্রিলিয়ন ডলারে) অবস্থান করছে তাঁদের বাজারমূল্য। একই অবস্থা মাইক্রোসফটেরও। তাঁদের বাজারদর হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ৩ দশমিক ৯৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারে বাজারমূল্যের দিক থেকে এনভিডিয়া, অ্যাপল ও মাইক্রোসফটের পরেই আছে গুগলের মালিকপ্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, অ্যামাজন ও মেটা।

৫ ট্রিলিয়ন সংখ্যাটা কত বড়?
এনভিডিয়া’র বাজারমূল্য এখন জার্মানির ৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপি’র চেয়েও বেশি! উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির দেশ আমেরিকা ও চীনের জিডিপি যথাক্রমে ২৯ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন এবং ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি’র আকার ৫৫ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এনভিডিয়া’র বাজারমূল্য এখন বাংলাদেশের মোট জিডিপি’র ১১ গুণ!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির শক্তিতে এনভিডিয়া’র আকাশছোঁয়া সাফল্য
২০১৫ সালে এনভিডিয়া’র বাজারমূল্য ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গত এক দশকে তাঁদের শেয়ারদর ৪৪ হাজার শতাংশ (৪৪,০০০%) বৃদ্ধি পেয়েছে!

তবে এনভিডিয়া’র আজকের ‘এনভিডিয়া’ হয়ে উঠার গল্পের শুরু ২০২২ সালের নভেম্বরে, চ্যাটজিপিটি’র আগমনের পর থেকে। ওপেনএআই চ্যাটজিপিটি উন্মোচনের পর বিশ্বব্যাপী দ্রুতই বাড়তে থাকে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার, এবং সেই সাথে চাহিদাও। ইতোমধ্যে এআই হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার- দুইয়ের চাহিদাই রীতিমতো আকাশ ছুঁয়েছে। 

এই প্রেক্ষাপটে এআই চিপ তৈরির বাজারে একাধিপত্য বিস্তার করেছে এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক তালিকায় আছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই, ইলন মাস্কের টেসলা ও এক্সএআই, জাকারবার্গের মেটা, অ্যামাজন এবং ওরাকলের মতো প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, চ্যাটজিপিটি আসার পর বিগত তিন বছরে এনভিডিয়া’র শেয়ারদর বেড়েছে ১২ গুণ! 

সম্প্রতি এনভডিয়া’র প্রধান নির্বাহী (সিইও) জেনসেন হুয়াং ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর প্রতিষ্ঠান ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এআই চিপের ক্রয়াদেশ (অর্ডার) পেতে চলেছে। এছাড়া আমেরিকা সরকারের জন্য তাঁরা ৭টি সুপারকম্পিউটার তৈরি করবে বলেও জানিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার এনভিডিয়া জানিয়েছে, তাঁরা নকিয়া’তে ১ বিলিয়ন ডলারের মালিকানা নিতে যাচ্ছে।

এনভিডিয়া’র বাজারমূল্য বাড়ার সাথে সাথে সিইও জেনসেন হুয়াং-এর ব্যক্তিগত সম্পদও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এনভিডিয়া’র প্রায় ৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি এবং বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ১৭৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় হুয়াং বর্তমানে আট নাম্বারে অবস্থান করছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ফোর্বস