৪ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার চুক্তি বলে দিচ্ছে পিছিয়ে নেই অ্যামাজন

সম্প্রতি অ্যামাজনের ক্লাউড সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সেবায় বিঘ্ন ঘটে, ব্যাহত হয় তাঁদের স্বাভাবিক কার্যক্রম। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে ব্যাপক। তবে সোমবার চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই’র সাথে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়ে অ্যামাজন জানিয়ে দিল, এআই খাতে ক্লাউড সেবায় তাঁরা এতটুকুও পিছিয়ে নেই।

অ্যামাজনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) দীর্ঘদিন ধরেই ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে ক্লাউড সার্ভারে ত্রুটিজনিত ক্লাউড বিভ্রাটের পর প্রতিষ্ঠানটি কিছুটা হলেও বাজার হারিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের অ্যাজিওর ও গুগল ক্লাউডের কাছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে একেবারেই সময় নেয়নি ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন। সোমবার ওপেনএআই’র সাথে সম্পাদিত ৩৮ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির কল্যাণে বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠান। একাধিক বছরের জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উল্লেখিত অর্থের অংকটা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এই চুক্তির অধীনে ওপেনএআই তাঁদের এআই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবকাঠামোগত সহায়তা নেবে অ্যামাজনের বিশ্বমানের ক্লাউড সেবার মাধ্যমে। উল্লেখ্য, এআই খাতে ওপেনএআই’র মতো শীর্ষস্থানীয়  প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী অবকাঠামোর জন্য হয় নিজেরাই তৈরি করছে ডেটা সেন্টার, নতুবা অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট, ওরাকলের মতো ক্লাউড কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হচ্ছে।

অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) এখনও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বাজারে নেতৃস্থানীয় অবস্থানে আছে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁদেরকে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সিনার্জি রিসার্চ গ্রুপের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের নভেম্বরে চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার কয়েক মাস আগেও ক্লাউড সেবার বাজারে অ্যামাজনের শেয়ার ছিল ৩৫ শতাংশ, যেটা এ বছরে সেপ্টেম্বরে এসে দাঁড়িয়েছে ২৯ শতাংশ।

বিনিয়োগকারীদের অনেকেরই ধারণা ছিল, এআই’র দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে অ্যামাজন। কেননা একদিকে যেমন তাঁরা নিজস্ব একটি লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেল চালু করতে দেরি করেছে, অন্যদিকে চ্যাটজিপিটি’র মতো ভোক্তা-কেন্দ্রিক চ্যাটবট তৈরিতেও ব্যর্থ হয়। 

কিন্তু সম্প্রতি তাঁরা এআই খাতে নিজেদের বিনিয়োগ বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত মাসে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে প্রজেক্ট রেইনিয়ার নামের একটি ডেটা সেন্টার চালু করেছে অ্যামাজন। এই ডেটা সেন্টারেই প্রশিক্ষিত হচ্ছে এআই স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিকের নতুন এআই মডেলগুলো। উল্লেখ্য, এআই মডেলের এই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে অ্যামাজনের নিজস্ব ট্রেনিয়াম চিপস। 

ওপেনএআই’র সাথে সাম্প্রতিক চুক্তি সম্পাদন এবং গত প্রান্তিকের শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল- সব মিলিয়ে অ্যামাজন আবারও গতি ফিরে পাচ্ছে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স