বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার আক্রমণ। চলতি বছর অনলাইন শপিং ও গেমিংয়ে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া-ভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা ও অ্যান্টি-ভাইরাস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি।
অ্যান্টি-ভাইরাসের বাজারে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ক্যাসপারস্কি সম্প্রতি তাঁদের সাইবার হামলা সম্পর্কিত ২০২৫ সালের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ বছর অনলাইন শপিং ব্যবসায় ফিশিং ও ভুয়া অফারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে অনলাইন স্টোর, ব্যাংক ও পেমেন্ট সিস্টেম সেজে তৈরি করা ৬৪ লাখের বেশি ফিশিং প্রচেষ্টা ব্লক করেছে ক্যাসপারস্কি। এগুলোর অর্ধেকের ক্ষেত্রেই অনলাইন ক্রেতাদেরকে টার্গেট করা হয়েছে।
এছাড়া জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে সাইবার আক্রমণকারীরা অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতেও সাইবার হামলা চালিয়েছে ব্যাপকভাবে। অনলাইন গেমিংয়েও তাই সাইবার হামলার প্রবণতা বেড়েছে।
ক্যাসপারস্কি সিকিউরিটি নেটওয়ার্ক (কেএসএন) জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইন স্টোর, ব্যাংক ও পেমেন্ট সিস্টেম-এর ছদ্মবেশে তৈরি করা ৬৩,৯৪,৮৫৪ টি ফিশিং প্রচেষ্টা ব্লক করতে সক্ষম হয়েছে তারা। এর মধ্যে ৪৮.২ শতাংশই অনলাইন ক্রেতাদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়।
একই সময়ে অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে ২ কোটিরও বেশি বার। এর মধ্যে কেবলমাত্র ডিসকর্ডকে ব্যবহার করেই ১ কোটি ৮৫ লাখের বেশি সাইবার হামলা শনাক্ত করতে পেরেছে ক্যাসপারস্কি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, পশ্চিমা বিশ্বে ব্ল্যাক ফ্রাইডেকে কেন্দ্র করে ভোক্তাদের অনেকেই মেতে উঠেন কেনাকাটার উৎসবে। এ কারণে ব্ল্যাক ফ্রাইডেকে ঘিরে অনেক স্প্যাম মেইল পাঠিয়েছে সাইবার অপরাধীরা।
নভেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৫টি স্প্যাম ইমেইল শনাক্ত করেছে ক্যাসপারস্কি। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৭২টি এসেছে ‘সিঙ্গেলস ডে’ উপলক্ষে।
এসব ইমেইলের অনেকগুলোই আগের বছরের টেমপ্লেট পুনর্ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এগুলো অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট, আলিবাবা’র মতো বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের নামে পাঠানো হয়েছে। বিনোদন প্ল্যাটফর্মকেও ছাড় দেয়নি সাইবার অপরাধীরা। ২০২৫ সালে ৮ লাখের বেশি নেটফ্লিক্স এবং ৫ লাখের বেশি স্পটিফাই–সংশ্লিষ্ট ফিশিং প্রচেষ্টা শনাক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ক্যাসপারস্কি।
ই-কমার্স ছাড়াও সাইবার অপরাধীরা গেমিং সিস্টেম, যেমন- স্টিম, প্লেস্টেশন, এক্সবক্স’কেও টার্গেট করেছে, যেখানে ২০ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি ফিশিং প্রচেষ্টা ধরা পড়েছে।
গেমিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ম্যালওয়্যারও বছরজুড়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এগুলোর মধ্যে ২ কোটি ১৮ হাজার ৮৯৭টি ম্যালওয়্যার শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে শুধু ডিসকর্ড থেকেই শনাক্ত হওয়া ম্যালওয়্যারের সংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখ ৫৬ হাজার ৫৬৬। সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি!
বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কিত ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ক্যাসপারস্কির সিনিয়র ওয়েব কনটেন্ট অ্যানালিস্ট ওলগা অলতুখোভা বলেন, ‘এ বছরের তথ্য বলছে, সাইবার অপরাধীরা এখন পুরো ডিজিটাল দুনিয়া জুড়েই সক্রিয়। তারা অনলাইন শপিং, গেমিং, স্ট্রিমিং ও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের সকল জায়গায় ব্যবহারকারীর চলাচল (কার্যক্রম) লক্ষ্য করে নিজের কৌশল বদলায় এবং পরিচিত পরিবেশের ভেতরে লুকিয়ে থাকে।’
এই প্রেক্ষপটে অনলাইন কেনাকাটায় ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওলগা অলতুখোভা আরও বলেন, তাই ব্যবহারকারীদের জন্য অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে নিয়মিত সতর্ক থাকা এবং বেসিক নিরাপত্তা অভ্যাস মানা এখন আরও জরুরি বলে মনে করছে ক্যাসপারস্কি।