বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে অনলাইনে সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। ফুটবলপ্রেমীদের লক্ষ্য করে ভুয়া স্ট্রিমিং, বেটিং এবং ম্যাচ পূর্বাভাস–সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, ১১ জুন টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি অন্তত ৩৩৬টি ভুয়া ডোমেইন শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীদের বিনা মূল্যে খেলা দেখার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিবন্ধনের পর ‘লাইফটাইম টুর্নামেন্ট অ্যাক্সেস’-এর নামে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়। এতে ব্যবহারকারীরা অর্থ হারানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভুয়া বেটিং ও ম্যাচ পূর্বাভাস ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ব্যবহারকারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার অজুহাতে নাম, ই-মেইল ঠিকানা এবং ফোন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই পাসওয়ার্ড একাধিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
ক্যাসপারস্কির সিনিয়র ওয়েব কনটেন্ট বিশ্লেষক ওলগা আলতুখোভা বলেন, “বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতারকেরা অনলাইনে ম্যাচ দেখার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ভাষায় ভুয়া স্ট্রিমিং ও বেটিং সেবা চালু করছে। তাই ব্যবহারকারীদের শুধু অফিসিয়াল সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করা এবং অনলাইনে আরও সতর্ক থাকা উচিত।”
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফুটবলপ্রেমীদের লক্ষ্য করে ফিশিং ই-মেইলও পাঠানো হচ্ছে। এসব ই-মেইলে ভুয়া ম্যাচ বিশ্লেষণ বা জয়ের পূর্বাভাসের নামে অর্থ পরিশোধ কিংবা ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করা হয়। এক ঘটনায় ব্যবহারকারীদের তথাকথিত ‘বিশেষ ম্যাচ বিশ্লেষণ’ পাওয়ার জন্য ২০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল।
সাইবার ঝুঁকি এড়াতে ব্যবহারকারীদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা ও বানান ভালোভাবে যাচাই করার, শুধুমাত্র বিশ্বস্ত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের এবং সন্দেহজনক ই-মেইল বা লিংক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ক্যাসপারস্কি। পাশাপাশি মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) চালু রাখা, অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহারের সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।



