ঢাকা শুরু হচ্ছে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’। আগামীকাল বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনব্যাপী এই এক্সপো যৌথভাবে আয়োজন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আয়োজকেরা। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, এনডিসি, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য (বিনিয়োগ ও পার্ক সমন্বয়) ও আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান এবং বিসিএসের মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘ভুলতথ্য ও ক্ষতিকর ন্যারেটিভ মোকাবিলায় একাধিক বিভাগ ও সংস্থার সমন্বয়ে একটি হাই-পাওয়ার কমিটি কাজ করছে। ১৫ সদস্যের একটি টিম নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ২১ জন প্রকৌশলী ২৪ ঘণ্টা এই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। সন্দেহজনক কনটেন্ট শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্লেষণ ও ফ্যাক্ট চেক করে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। যার ফলে সাইবার সেফটি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী গত এক মাসে রিপোর্ট করা কনটেন্টের ২৯ শতাংশ টেকডাউন করা সম্ভব হয়েছে।’
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, ‘হাই-টেক পার্কের সুফল এখন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দৃশ্যমান। এবারের এক্সপোতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হবে। দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে।’
মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, ‘এই এক্সপো কেবল প্রযুক্তি প্রদর্শনের আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের বিনিয়োগ সক্ষমতা, নীতিগত প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রতিফলন। একটি সংযুক্ত ও বিনিয়োগবান্ধব ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।’
বিসিএস সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, ‘শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন ও দেশীয় প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এবারের এক্সপোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নে সেমিনার, প্যানেল আলোচনা এবং জ্ঞানভিত্তিক নানা আয়োজন থাকবে। এতে তরুণদের অংশগ্রহণ, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’
প্রথম দিন উদ্বোধনের পর প্রদর্শনী রাত ৮টা পর্যন্ত এবং অন্যান্য দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশ বিনামূল্যে হলেও অনলাইনে (www.ddiexpo.com.bd) অথবা স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে।
এক্সপোতে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসে বিশেষ ছাড় ও অফার থাকবে। ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মেলায় থাকবে ইনোভেশন জোন, ডিজিটাল ডিভাইস জোন, মোবাইল জোন, ই-স্পোর্টস জোন ও বিটুবি জোন।
প্রদর্শনী চলাকালে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক দিক নিয়ে পাঁচটি সেমিনার ও চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব সেমিনার ও আলোচনায় দেশের বরেণ্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।
চার দিনের এই প্রদর্শনীতে গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইপসন, অনর, এইচপি, লেনোভো, অপো, স্যামসাং, টেকনো ও শাওমি। সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এসার, গিগাবাইট, নেটিস, টিপি-লিংক ও ইউসিসি। স্টারলিংক পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে স্টারলিংক ফেলিসিটি আইডিসি।