এনইভি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি এবার বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের সর্বাধুনিক ইলেকট্রিক গাড়ি সিলায়ন ৫। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের এই এসইউভি মডেলটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন সম্পন্ন হয়। দেশে গাড়িটির ন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করছে সিজি রানার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিজি রানার বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমিদ সাকিফ খান এবং বিওয়াইডির ক্রেতারা। অনুষ্ঠান শেষে ক্রেতাদের হাতে প্রি-অর্ডার করা মোট ২৫টি গাড়ি তুলে দেওয়া হয়।
বিওয়াইডি সিলায়ন ৫-এর ডুয়েল-পাওয়ার সিস্টেমে রয়েছে শক্তিশালী ১৫০০ সিসির ইঞ্জিন এবং অ্যাডভান্সড ইলেকট্রিক মোটর। গাড়িটি তেল ও বিদ্যুতে সর্বমোট ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে। দৈনন্দিন শহরে চলাচলের জন্য এতে ৭১ কিলোমিটার পর্যন্ত পুরোপুরি বৈদ্যুতিক রেঞ্জ পাওয়া যাবে। ফলে ছোট দূরত্বে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ ভ্রমণে হাইব্রিড সুবিধা মিলবে।
গাড়িটি ১৫৬ কিলোওয়াট শক্তি ও ৩০০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপাদন করতে সক্ষম। মাত্র ৭.৭ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে পারে। নিরাপত্তার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে রয়েছে সাতটি এয়ারব্যাগ, বিওয়াইডি ব্লেড ব্যাটারি, ভেহিকেল-টু-লোড ফাংশন এবং অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (এডিএএস)। গাড়ির ভেতরে আছে ১২.৮ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে এবং প্যানোরামিক সানরুফ।
বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের বলেন, ‘সিলায়ন ৫–এর মাধ্যমে প্রতিদিনের যাতায়াত সহজ, আরামদায়ক এবং বৈদ্যুতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হবে। দীর্ঘ যাত্রাতেও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকবে।’
গাড়িটি চারটি রঙে পাওয়া যাবে- কসমস ব্ল্যাক, অরোরা হোয়াইট, আটলান্টিস গ্রে এবং হারবার গ্রে। প্রথম ৫০০ গ্রাহকের জন্য দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ওয়ারেন্টি দেওয়া হবে- ব্যাটারি ৮ বছর বা ১৬০০০০ কিমি, মোটর ৮ বছর বা ১৫০০০০ কিমি এবং পুরো গাড়ি ৬ বছর বা ১৫০০০০ কিমি পর্যন্ত।
উন্মোচনের সময় প্রি-অর্ডার করা ২৫টি গাড়ির চাবি ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিওয়াইডি বাংলাদেশের হেড অব সেলস ফাহমিদ ফেরদৌস বলেন, ‘প্রি-অর্ডারের সংখ্যা আমাদের গাড়ির জনপ্রিয়তার প্রমাণ।’
সিলায়ন ৫-এর মাধ্যমে বিওয়াইডি বাংলাদেশে আরও উন্নত ও সাসটেইনেবল গাড়ি সমাধান সরবরাহ করবে। এ গাড়ি দেশের মানুষকে আধুনিক, আরামদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য ভ্রমণের সুযোগ দেবে।