চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ৯৩৭.১ কোটি টাকা মুনাফা করল রবি

২০২৫ সালে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপসহ নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও রবি ৯৩৭.১ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করেছে। এটি এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বোচ্চ কর-পরবর্তী মুনাফা। রবি আজিয়াটার ৩০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এসব তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বুধবার রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান থায়াপারান সাঙ্গারাপিল্লাই। এতে উপস্থিত ছিলেন স্বতন্ত্র পরিচালক নাসির উদ্দিন আহমেদ ও নাসরীন সাত্তার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াদ সাতারা এবং কোম্পানির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা।

সভায় জানানো হয়, নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও রবি ২০২৫ সালে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯৩৭.১ কোটি টাকা, যা এখন পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ।

রবির চেয়ারম্যান থায়াপারান সাঙ্গারাপিল্লাই বলেন, ‘দ্বৈত-ব্র্যান্ড কৌশল, শৃঙ্খলাপূর্ণ মূলধন ব্যবস্থাপনা এবং ডেটা রাজস্ব বৃদ্ধির কারণে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। পরিচালনগত স্থিতিশীলতা, ফোরজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রায় শূন্য ঋণ পরিস্থিতি কোম্পানির আর্থিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে।’

ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও জিয়াদ সাতারা বলেন, ‘কোম্পানির অগ্রগতিতে ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে রবির সক্রিয় গ্রাহকদের প্রায় ৭০ শতাংশ ফোরজি সেবা ব্যবহার করছেন, যা খাতটিতে সর্বোচ্চ হার।’

তিনি জানান, ‘রবি ইতোমধ্যে দেশে ফাইভজি সেবা চালু করেছে। পাশাপাশি ৩,৫০০ কিলোমিটার ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রথম চার-স্তরবিশিষ্ট ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।’

টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রবি ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। কোম্পানির মতে, এটি ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালে রবির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে ১.৭৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩.৬ শতাংশ বেশি। শেয়ারহোল্ডাররা এ সময় ১৭.৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন।