দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য কর ও ভ্যাট সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর বর্তমানে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর বা সোর্স ট্যাক্সও তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক কিংবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম থেকে আয় করা ব্যক্তিরা সরাসরি এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণ এবং ফ্রিল্যান্সিং খাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে কয়েক লাখ তরুণ-তরুণী এই খাতে কাজ করছেন। তাদের একটি বড় অংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে দেশে আনছেন। কর ও ভ্যাটের চাপ কমানো হলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু কনটেন্ট ক্রিয়েটর নয়, প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও থাকছে স্বস্তির বার্তা। স্টার্টআপ, ইনোভেশন ভেঞ্চার এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতির চিন্তা করছে সরকার।
এ ছাড়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কোনো সেবা আমদানি করলে তার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং অফিস বা কর্মস্থল ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাটও মওকুফের প্রস্তাব রয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য শুরুতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয় পরিচালন ব্যয়। ভ্যাট অব্যাহতি পেলে তাদের ব্যয় কমবে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ সহজ হবে।
প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল কনটেন্ট, সফটওয়্যার সেবা ও উদ্ভাবনভিত্তিক ব্যবসার বাজার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশও এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। সে কারণে সরকার করনীতি ও ভ্যাটনীতিতে কিছু প্রণোদনা দেওয়ার পথে হাঁটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত সুবিধাগুলো বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় বাড়বে। অন্যদিকে স্টার্টআপ খাতে নতুন বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে। এর ফলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।