চট্টগ্রামে বিপিও সামিট, উদ্বোধন হলো ফ্রিল্যান্সার কার্ড

তরুণদের বৈশ্বিক কর্মসংস্থান, আউটসোর্সিং ও ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬’। শনিবার নগরের খুলশী কনভেনশন হলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়।

‘হোয়্যার ট্যালেন্ট মিটস গ্লোবাল অপরচুনিটি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী এ সামিটে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ক্যারিয়ার এক্সপো, সেমিনার, তথ্যপ্রযুক্তি অলিম্পিয়াড ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’-এর উদ্বোধন করেন। এ কার্ড ফ্রিল্যান্সারদের আর্থিক ও পেশাগত কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তরুণ জনগোষ্ঠী। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সুযোগ পেলে তারাই ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।’ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল্লাহ আল মামুন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাক্কোর সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম।

বাক্কোর সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম বলেন, ‘দেশের বিপিও ও আইটিইএস খাত বর্তমানে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে এবং এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় ও তিন লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে বাক্কো।’

সামিটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘স্কিলড ইয়ুথ: ড্রাইভিং ইনোভেশন অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনার। এতে শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

আয়োজকেরা জানান, চট্টগ্রামের বিশ্ববিদ্যালয়, তরুণ জনশক্তি, ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে অঞ্চলটিকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা ও আউটসোর্সিং কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। তাদের মতে, চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এবারের সামিট তরুণদের বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।