একটি মাত্র ই-মেইল... আপনার পুরো প্রতিষ্ঠানকে মুহূর্তেই অচল করে দিতে পারে। ফিশিং, স্পুফিং আর ডোমেইন ছদ্মবেশ—প্রতিদিন বাড়ছে সাইবার হামলার নতুন নতুন ফাঁদ। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ঢাকায় হয়ে গেল একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। নিরাপদ ই-মেইল অবকাঠামো নিয়ে মুখোমুখি হলেন দেশের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা।
ই-মেইল অবকাঠামো ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ আয়োজন করল কোলোসিটি লিমিটেড। অনুষ্ঠানের নাম ছিল—‘সিকিউর ইমেইল সল্যুশন, পাওয়ার্ড বাই জিমব্রা’। গত ২০ আগস্ট রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে বসেছিল এই হাই-প্রোফাইল আয়োজন। উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি নেতা, এন্টারপ্রাইজ আইটি পেশাজীবী এবং করপোরেট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা। আর্থিক সেবা থেকে টেলিকম, উৎপাদন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠান—সব খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এক ছাদের নিচে।
মূল আলোচনায় ছিল দুটি নাম—জিমব্রা ও ব্যারাকুডা। জিমব্রা ও ব্যারাকুডা নেটওয়ার্কসের যৌথ উদ্যোগে কীভাবে গড়ে তোলা যায় একটি নিরাপদ মেসেজিং ইকোসিস্টেম, সেটাই ছিল এবারের মূল প্রতিপাদ্য।
প্রশ্ন হলো, কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে নিরাপদ ই-মেইল?
বক্তারা স্পষ্ট করেছেন, ই-মেইল এখন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু একই সঙ্গে এটি সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। শুধু একটি ই-মেইল প্ল্যাটফর্ম থাকলেই আজ আর চলে না, প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বলয়।
আলোচনায় উঠে আসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ—ডেটা সার্বভৌমত্ব, স্থানীয় হোস্টিং ও বড় স্টোরেজ সক্ষমতা, বিজনেস কন্টিনিউটি এবং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ই-মেইল সিস্টেম থেকে আধুনিক ও নিরাপদ প্ল্যাটফর্মে মাইগ্রেশন।
এখানেই বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কোলোসিটির ভূমিকা। দীর্ঘদিন ধরে জিমব্রার বিজনেস সার্ভিস প্রোভাইডার (বিএসপি) হিসেবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। হোস্টিং, ডেপ্লয়মেন্ট, মাইগ্রেশন থেকে শুরু করে কারিগরি সহায়তা—পুরো ই-মেইল যাত্রায় পাশে থাকছে কোলোসিটি।
অনুষ্ঠানে আলাদা করে নজর কাড়ে ‘জিমব্রা ডেস্কটপ’। এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান করপোরেট ই-মেইলের জন্য আউটলুক বা থান্ডারবার্ডের মতো থার্ড-পার্টি অ্যাপের ওপর নির্ভরশীল। এতে তৈরি হয় বাড়তি নির্ভরতা ও ঝুঁকি। জিমব্রা ডেস্কটপ সেই নির্ভরতা কাটাতে চায়।
আর সবচেয়ে বিপজ্জনক যে ঝুঁকির কথা উঠে এল, তা হলো ডোমেইন প্রতারণা। আক্রমণকারীরা এখন হুবহু প্রতিষ্ঠানের ডোমেইনের মতো দেখতে ভুয়া ডোমেইন তৈরি করছে। ব্যবসায়িক পার্টনারের নামে ই-মেইল পাঠাচ্ছে, যা দেখে বোঝার উপায় নেই সেটি আসল নাকি নকল। এই ঝুঁকি ঠেকাতে শুধু স্প্যাম ফিল্টার যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ডোমেইনের পরিচয় ও সুনাম রক্ষার প্রযুক্তি। এখানেই আসে ব্যারাকুডার শক্তি।
কোলোসিটি লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস অফিসার মো. আল ফুয়াদ বলেন, ‘ই-মেইল এখন প্রতিষ্ঠানের আইটি অবকাঠামোর সবচেয়ে জরুরি অংশ। একই সঙ্গে এটি সাইবার হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুও। আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া নয়। জিমব্রা আমাদের মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, আর ব্যারাকুডা দিচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তার স্তর। এই দুইয়ের মিলনে শুধু মেইলবক্স নয়, সুরক্ষিত থাকবে প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল পরিচয়ও।’
দিনশেষে বার্তাটি পরিষ্কার—ভবিষ্যতের করপোরেট যুদ্ধটা হবে ইনবক্সে, যেখানে একটি ক্লিকই নির্ধারণ করে দেবে প্রতিষ্ঠান সুরক্ষিত নাকি ঝুঁকিতে।