আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) ও কোচিং সংশ্লিষ্ট খাতের দেশ-বিদেশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে শনিবার রাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে এআইফোরবিটি গ্লোবাল সামিটের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা।
এআইয়ের চরম উৎকর্ষের সময়ে এন্টারপ্রাইজগুলোর প্রস্তুতি, কোচদের ভূমিকা ও ইআরপির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য উঠে এসেছে এসব আলোচনায়।
সামিটের দ্বিতীয় দিনে টেক কী নোট উপস্থাপন করেন বিজনেস এআই ট্রান্সফরমেশন আর্কিটেক্ট, মেটামরফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) সাদিক এম আলম এবং একই প্রতিষ্ঠানের হেড অব টেকনোলজি ও ওডু সল্যুশন আর্কিটেক্ট নিয়াজ শাহরিয়ার শিশির।
এ দুই বক্তা স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট, মাল্টি এজেন্ট ওয়ার্কফ্লো তথা একাধিক এজেন্টচালিত কর্মপ্রবাহ, অনমনীয় ইআরপি ব্যবস্থাকে সক্রিয় ও অভিযোজনমুখী এন্টারপ্রাইজ এক্সিকিউশন ইঞ্জিনে রূপান্তরের নানা বাস্তবতা তুলে ধরেন।
তাদের বক্তব্যের পর অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসভিপি) ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুসন এম এম মাহবুব হাসান।
তার ইন্ডাস্ট্রি কী নোটে এআইকে কীভাবে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়টি উঠে এসেছে।
সামিটের সিকিউরিটি কী নোটে ডেটা গভর্ন্যান্স ও সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের ইভিপি ও সিটিও এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অ্যাডজাংকট ফ্যাকাল্টি ফয়সাল হোসেন।
তার আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল এআই নেটিভ এন্টারপ্রাইজগুলোতে আস্থা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম ডেটা কমপ্লায়েন্সের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক এবং সাইবার স্থিতিস্থাপকতা ও এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার।
প্রথম দিনের মতো সামিটের দ্বিতীয় দিনেও হয়েছে প্রাণবন্ত গোলটেবিল আলোচনা। এতে বক্তারা তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে কোচদের ভূমিকা, অটোমেশনকেন্দ্রিক ভীতি নিরসন ও শিখন উপযোগী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর অভিমত তুলে ধরেন।
গোলটেবিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বিজয় ওয়েলনেস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জয়া বার্লিন, বিজনেস কোচ ও লিডারশিপ ট্রেইনার কামরুল হাসান, মাস্টার সার্টিফায়েড কোচ, আইসিএফ শবনম মোস্তারী, আমান গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (এইচআর) এ বি এম ইউসুফ আলি খান, ট্রান্সফরমেশন কোচ, পিসিসি আফিয়া পারভীন, এন্টারপ্রাইজ অ্যাজাইল কোচ ও কনসালট্যান্ট মামুন মোর্শেদ।
গোলটেবিলের পর এইআইয়ের সহায়তায় সিস্টেমস, অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড প্রোডাক্টস (এসএপি বা স্যাপ) ট্রান্সফরমেশন নিয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বক্তব্য দেন স্যাপ বিশেষজ্ঞ দেবরাজ ভট্টাচার্য। এআই কীভাবে স্যাপ ইকোসিস্টেমকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করছে, সেটিই ছিল তার আলোচনার অন্যতম বিষয়।
দেবরাজের বক্তব্যের পর এজেন্টিক ইআরপি ইউজ কেইস নিয়ে লাইভ ওয়ার্কশপে অংশ নেন ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রাইসুল কবির। তিনি বাস্তব জগতে এজেন্টিক ইআরপি ইউজ কেইসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ দুজনের বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ ও সার্টিফিকেট প্রদানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে সামিটের দ্বিতীয় দিনের ইতি টানেন বিজনেস এআই ট্রান্সফরমেশন আর্কিটেক্ট সাদিক এম আলম এবং এআই ট্রান্সফরমেশন কোচ ও এআইবিটি গ্লোবালের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান। প্রেস রিলিজ=