তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথ দেখাচ্ছে ‘স্টার্ট করো’

প্রেনিউর ল্যাবের উদ্যোগে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আয়োজন করা হয়েছে ‘স্টার্ট করো’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ক্যাম্পাস ইনকিউবেশন বুটক্যাম্প ও স্মার্ট পলিসি রিফর্ম ল্যাব’। এতে অংশ নেন প্রায় ৬০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও উদীয়মান উদ্যোক্তা।

প্রেনিউর ল্যাব ইয়ুথ অ্যান্ড ইনোভেশন ট্রাস্টের আয়োজনে এবং অ্যাটলাস নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি ‘স্টার্ট করো’ সিজন ৫-এর অংশ। এর আগে একই ধরনের আয়োজন সাভার, রংপুর, সিলেট ও বরিশালের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দিনব্যাপী আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যবসায়িক ধারণা তৈরি, বাজার গবেষণা, গ্রাহকের চাহিদা নিরূপণ এবং পণ্য যাচাইয়ের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করেন। পাশাপাশি মিনিমাম ভায়াবল প্রোডাক্ট (এমভিপি) তৈরির প্রাথমিক ধাপ সম্পর্কেও হাতে-কলমে ধারণা পান।

কর্মশালায় মেন্টর হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন স্টার্ট২স্কেলআপের পরিচালক আলামিন প্রান্ত এবং প্রেনিউর ল্যাবের অপারেশনস ও অ্যাডমিন প্রধান এম. আশরাফুল তানভীর। অতিথি বক্তা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের রিফর্ম ল্যাব পর্বে তরুণ উদ্যোক্তারা ব্যবসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতি ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন। ব্যবসা নিবন্ধন, লাইসেন্স, কর এবং অর্থায়নে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়ে নিজেদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন তাঁরা।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ‘স্টার্ট করো’ সিজন ৫-এ এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জনের বেশি উদ্যোক্তা যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের উদ্যোগে ৬০টির বেশি নতুন ব্যবসা চালু হয়েছে এবং প্রায় ২০০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় গত জুলাইয়ে চালু করা হয় ‘স্টার্ট করো এআই হাব’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এ প্ল্যাটফর্ম উদ্যোক্তাদের ব্যবসা নিবন্ধন, লাইসেন্স, কর ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বিষয়ে সহায়তা করে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০০ উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করেছেন।

আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতে ইনকিউবেশন কার্যক্রম পাঁচটি শহর থেকে বাড়িয়ে ১০টি শহরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রিফর্ম ল্যাব থেকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবসা নিবন্ধন, লাইসেন্সের মেয়াদ ও এসএমই অর্থায়ন বিষয়ে একটি নীতি গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হবে।

তাদের মতে, উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু নতুন উদ্যোক্তা তৈরি নয়। বরং ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্টার্টআপ সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণদের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সম্পৃক্ত করে তোলা।