চট্টগ্রামের দুটি বাণিজ্যিক মার্কেটে ইন্টারনেট সেবা প্রদানে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। একই সঙ্গে গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী বৈধ লাইসেন্সধারী যেকোনো ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঢাকায় বিটিআরসির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে চট্টগ্রামের মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটি ও বালি আর্কেডের ইন্টারনেট সেবা–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিটিআরসি, সংশ্লিষ্ট মার্কেট কর্তৃপক্ষ এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে আইএসপিএবি অভিযোগ করে, মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটিতে মার্কেট কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন সক্রিয় নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করতে হয় আইএসপিগুলোকে। এ জন্য ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এককালীন ১ লাখ টাকা এবং মাসিক আয়ের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সেবা ফি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট মার্কেট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। কমিশন জানায়, বৈধ লাইসেন্সধারী আইএসপিগুলো যেন গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত চার্জ বা অযৌক্তিক বাধার মুখে না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে বালি আর্কেডের ক্ষেত্রে বৈঠকে জানানো হয়, মার্কেট কর্তৃপক্ষ একটি আইএসপি থেকে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে তা নিজেদের ইউটিলিটি সেবা হিসেবে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করছে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে সরাসরি বিল আদায় করছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটি ও বালি আর্কেডের দোকান, অফিস এবং অন্যান্য গ্রাহক বিটিআরসির অনুমোদিত ট্যারিফ অনুযায়ী নিজেদের পছন্দের যেকোনো বৈধ লাইসেন্সধারী আইএসপি থেকে ইন্টারনেট সেবা নিতে পারবেন। তবে মার্কেট দুটিতে ফাইবার অপটিক কেবলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আইএসপিএবিকে নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো ভবন, মার্কেট, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, আবাসিক এলাকা বা আবাসন প্রকল্পে কোনো নির্দিষ্ট আইএসপির মাধ্যমে একচেটিয়া বা দ্বৈত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা সৃষ্টি বা বজায় রাখতে কোনো আইএসপি সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে আইন, লাইসেন্সের শর্ত এবং বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ‘গ্রাহকের সেবাদাতা নির্বাচনের স্বাধীনতা, আইএসপিগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং বৈধ লাইসেন্সধারী সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন।’
আইএসপিএবির মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঞা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিটিআরসির নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট মার্কেট কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের পছন্দের স্বাধীনতা এবং বৈধ আইএসপিগুলোর সমান ব্যবসায়িক সুযোগ নিশ্চিত করবে।’