আপনি কি জানেন আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে কতটি সিম নিবন্ধিত আছে? এই সিমগুলোর নাম্বার সম্পর্কে কি আপনি অবগত? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা অতীব জরুরি। কেননা এর সাথে আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি জড়িত।
বিশেষ করে আপনার অগোচরে আপনার-ই জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তোলা হয়েছে এমন কোনো সিম সচল আছে কি-না তা জানা, এবং থাকলে সিমটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ আপনার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর নেওয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১০টি পর্যন্ত সিম নিবন্ধন করতে পারবেন। সংখ্যাটা এর আগে ছিল ১৫টি।
বিটিআরসি’র এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে চলতি মাসের শুরু (১ নভেম্বর) থেকে। এর ফলে এখন থেকে একজন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি-তে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ১০-এর বেশি হবে না।
তবে যাদের ইতোমধ্যেই ১০টির বেশি সিম নিবন্ধিত আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘দৈবচয়ন’ (র্যান্ডম সিলেকশন) নীতির ভিত্তিতে অতিরিক্ত সিমগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। মূলত সিম ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রতারণা রোধ করতেই বিআরটিসি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
কীভাবে জানবেন আপনার নামে কতটি সিম আছে?
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা এবং সিমগুলোর নাম্বার আপনি আপনার ফোন ব্যবহার করে খুব সহজেই জেনে নিতে পারেন। এজন্য প্রয়োজন হবে আপনার এনআইডি-এর শেষ চারটি সংখ্যা বা ডিজিট।
প্রথমেই আপনার মোবাইল ফোনের ডায়াল অপশনে গিয়ে *১৬০০১# টাইপ করে ডায়াল করতে হবে। এরপর স্ক্রিনে ইউএসএসডি বক্স দেখা যাবে যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের শেষ চারটি ডিজিট দিতে বলবে।
এবারে এই বক্সটিতে আপনার এনআইডি-এর শেষ চারটি ডিজিট (উদাহরণস্বরুপ: ০১২৩) টাইপ করে সেন্ড বাটনে ট্যাপ করতে হবে। ব্যস, এবারে ফিরতি মেসেজে (এসএমএস) আপনি জেনে যাবেন কোন কোন অপারেটরের কতটি সিম আপনার এনআইডি-তে নিবন্ধিত আছে।
অবশ্য নিবন্ধিত সিমের নাম্বারগুলো পুরোপুরি দেখা যাবে না। নাম্বারগুলোর প্রথম ও শেষের তিনটি করে ডিজিট স্ক্রিনে দেখা যাবে। এক্ষেত্রে শেষের তিনটি ডিজিট থেকে আপনি সহজেই জেনে যাবেন নিবন্ধিত সিমগুলোর মধ্যে আপনার অপরিচিত কোনো সিম রয়েছে কিনা।