ভারতে বিক্রি হওয়া প্রতিটি স্মার্টফোনে থাকতে হবে রাষ্ট্রীয় সাইবার নিরাপত্তা অ্যাপ ‘সঞ্চার সাথী’। ভারত সরকার সম্প্রতি গোপনে এমনই একটি বাধ্যতামূলত নির্দেশ দিয়েছে অ্যাপল, স্যামসাং, শাওমির মতো ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। কিন্তু সূত্রের বরাতে আজ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই নির্দেশ অনুসরণ করতে নারাজ আইফোন নির্মাতা অ্যাপল।
তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সূত্রের বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, সরকারের এই নির্দেশকে ঘিরে তৈরি হওয়া নজরদারি সঙ্ক্রান্ত উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে অ্যাপল সিদ্ধন্ত নিয়েছে, তাঁরা এই নির্দেশের বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা ভারত সরকারকে জানাবে।
উল্লেখ্য, ভারতের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁদের তৈরি প্রতিটি স্মার্টফোনে আগে থেকেই ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপটি প্রিইনস্টল করতে হবে। তবেই এগুলো ভারতের বাজারে বিক্রির জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে।
এখানেই শেষ নয়, কেনার পর ব্যবহারকারী চাইলেও অ্যাপটি ফোন থেকে সরাতে বা ডিলিট করতে পারবে না। আরএই নির্দেশ প্রতিপালনে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
যদিও সমালোচনার মুখে ভারতের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া মঙ্গলবার জানিয়েছেন, অ্যাপটি একটি ‘ঐচ্ছিক এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ এবং ব্যবহারকারীরা এটি ‘যেকোনো সময় তাদের ফোন থেকে সহজেই মুছে ফেলতে’ পারবেন।
‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপটির উদ্দেশ্য হচ্ছে চুরি যাওয়া ফোন ট্র্যাক করা, ব্লক করা এবং এগুলোর অপব্যবহার রোধ করা। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিবেদন বলছে, এই অ্যাপটির সহায়তায় এখন পর্যন্ত ৭ লাখ চুরি যাওয়া ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবর মাসেই উদ্ধার হয়েছে ৫০ হাজার ফোন।
সার্বিকভাবে, সরকারের এই বাধ্যতামূলক নির্দেশ প্রতিপালনের কোনো পরিকল্পনা নেই অ্যাপলের। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বেগের বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, অ্যাপল ভারত সরকারকে জানাবে যে, তাঁরা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে সরকারের এমন বাধ্যতামূলক নির্দেশ অনুসরণ করে না, কেননা তা তাঁদের আইওএস ইকোসিস্টেমের জন্য একাধিক গোপনীয়তা ও সুরক্ষা সম্পর্কিত সমস্যা তৈরি করে।
তবে বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই অ্যাপলের। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেবে না তাঁরা। এক্ষেত্রে অ্যাপল শুধু সরকারকে জানাবে যে, সুরক্ষার দুর্বলতার কারণে তারা এই নির্দেশ মানতে পারছে না। পাশাপাশি স্যামসাংসহ অন্য নির্মাতারাও সরকারের এই নির্দেশ খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক বিরোধীরা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।