মিশরের হুরগাদা থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইজিজেটের একটি ফ্লাইটকে মাঝ আকাশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ইতালির রোমে অবতরণ করতে হয়েছে। এক যাত্রীর লাগেজে থাকা পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয় বিমান কর্তৃপক্ষ।
ইজিজেট জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিশরের হুরগাদা থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট ইজিওয়াই২৬১৮ বুধবার ভোরে লন্ডনের লুটন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে উড্ডয়নের কিছু সময় পর এক যাত্রী কেবিন ক্রুদের জানান, তাঁর চেকড লাগেজে থাকা একটি পাওয়ার ব্যাংক চার্জিং অবস্থায় রয়েছে। এরপরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফ্লাইটটি রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।
এয়ারলাইনসটির এক মুখপাত্র বলেন, নিরাপত্তা বিধি অনুসারে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পাইলট ফ্লাইটটি রোমে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।
বিমানটি নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীদের স্বাভাবিকভাবে নামিয়ে আনা হয়। পরে যাত্রীদের জন্য হোটেল ও খাবারের ব্যবস্থাও করা হয় বলে জানিয়েছে ইজিজেট। যারা বিমানবন্দরে অবস্থান করেছিলেন, তাঁদের জন্যও রিফ্রেশমেন্ট দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের বরাতে যাত্রী পল কাস্টারটন বলেন, ‘হঠাৎ করেই বিমানটি দিক পরিবর্তন করে নিচে নামতে শুরু করে। তখন সবচেয়ে খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল।’
তিনি জানান, ‘পরে জানা যায় এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাংক থেকেই এই শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। তখন যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিযুক্ত পাওয়ার ব্যাংক বা পোর্টেবল চার্জার চেকড লাগেজে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এসব ব্যাটারি থেকে আগুন লাগলে কার্গো হোল্ডে তা দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিপরীতে কেবিনে আগুন লাগলে ধোঁয়া দ্রুত চোখে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকে।
এদিকে ইজিজেট সম্প্রতি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে ভ্রমণ খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গ্রীষ্মকালীন ফ্লাইট বুকিং গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। কোম্পানিটি বলছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এখন পর্যন্ত তাদের ৫৮ শতাংশ আসন বুক হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কম।