চাঁদের কাছে পৌঁছেছে আর্টেমিস, গড়তে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী সোমবার সকালে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বলয়ে প্রবেশ করেছেন। তারা এখন এমন এক পথে এগোচ্ছেন, যেখান থেকে চাঁদের অন্ধকার পিঠ ঘুরে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়বেন।

গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা থেকে ওরিয়ন ক্যাপসুলে করে যাত্রা শুরু করেন তারা। বর্তমানে মিশনের ষষ্ঠ দিনে রয়েছেন নভোচারীরা। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল) তারা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্বে পৌঁছাবেন। এটি ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ৪ হাজার ১০২ মাইল বেশি।

এই মিশনে রয়েছেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তারা চাঁদের অন্ধকার অংশের প্রায় ৪ হাজার মাইল ওপর দিয়ে উড়ে যাবেন। সেখান থেকে দূরের আকাশে ছোট্ট একটি বলের মতো পৃথিবীকে দেখতে পাবেন তারা।

প্রায় ১০ দিনের এই আর্টেমিস-২ মিশন আর্টেমিস কর্মসূচির প্রথম মানুষবাহী পরীক্ষামূলক ফ্লাইট। বহু বিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচির লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে আবার চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানো। পরবর্তী সময়ে সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার প্রস্তুতিতেও এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোমবার দুপুর ২টা ৩৪ মিনিট থেকে শুরু হবে চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার পর্যায়। এ সময় ক্যাপসুল চাঁদের আড়ালে চলে যাবে, ফলে কিছুক্ষণের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলবে এই ‘লুনার ফ্লাইবাই’।

নভোচারীরা ওরিয়নের জানালা দিয়ে পেশাদার ক্যামেরায় চাঁদের ছায়াময় ছবি তুলবেন। সূর্যের আলো চাঁদের কিনারা দিয়ে ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা যাবে, যা দেখতে অনেকটা চাঁদগ্রহণের মতো। চাঁদের ওপার থেকে বেরিয়ে আসার সময় তারা পৃথিবীর উদয়েরও ছবি তুলতে পারবেন। যা পৃথিবী থেকে দেখা চাঁদের উদয়ের উল্টো দৃশ্য।

হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে বিজ্ঞানীরা নভোচারীদের বর্ণনা শুনে রিয়েল টাইমে নোট নেবেন। মিশনটি সফল হলে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করার পথে বড় অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পথও আরও সুগম হবে।

সূত্র: রয়টার্স ও নাসা